কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

❏ সাম্য রাইয়ান

ঘ্রাণ শ্রুতি স্পর্শ সব গেছে
বাড়ির দক্ষিণে সোনালুর গাছ
দিগন্তদুপুরে
স্মৃতি ও পথিক
চলে গেছে অজানা গন্তব্যে।

গাভীর শরীরে ছোপ ছোপ
অন্তহীন অপমান!

দ্বন্দ্বে
কিছু মসৃণতা ছিলো।

অগ্নিরঙিন
সন্ধ্যার মুখে
আমার দিকে তাকিয়ে
হাসছে আমারই শব
অথবা স্বয়ং—
মিশছে মাটিতে
প্রেম-প্রতারণা
তার সাথে আমাদের
সমবেত আর্তনাদ।

পাহাড় নিবিয়ে দাও আলো।

বিষম অন্ধকারে 
ক্ষতিপূরণের আবেদন
সহজ অভ্যাসে জ্বলে 
মুছে যাক।

পিতার পাশে
অনুপ্রাসে
পায়ে হাঁটা পথ
দুরূহ ভীষণ

সহস্র দিকচিহ্নের মুখোমুখি
দিকশূন্য মুসাফির
মায়ের চুড়ি-কণা জাপটে ধরে
অন্তিম দুঃসাহসে।

রাজার ধর্ম খোঁজ। প্রশ্ন করো তাকে—
দুধে-ভাতে স্বপ্ন দেখিয়ে
ভক্তির ছলে ভাঙছে আমাকে।

পেটে ও বাড়িতে 
একসাথে 
আগুন জ্ব’লে শেষ।
জীবিত ঠিকানাহীন
মৃতের জন্য দেশ!

দূরের হাওয়ায় দেখি শান্তি টলোমলো
নির্বিকার নদী, আমার সাথে চলো।

ভাঙলো প্রাচীন বাড়ি। ভাগ হলো
যৌথপরিবার, স্বজন-বন্ধু-চেনা প্রেত।
আমিও চেয়েছি ভাঙন
আলাদা করতে ক্ষুধার থেকে পেট।

একটাই দিন, একটাই আলো, অগণিত সুর
একটাই রাত, একটাই হাওয়া, প্রকৃতি বিমূঢ়।

রক্তের স্রোতে বৈঠা ছুঁড়ে মারো।

দাঙ্গা ও জবা কী ভাবে ফোটে
কে কাকে ফুটিয়ে তুলতে চায়?

সারাদিনরাত 
নিঃসঙ্গ সুবোধ,
হাসিহীন চিৎকার 
চোখেমুখে ক্রোধ।

কেন সে হাসে না আজও সরকারি কৌতুকে?

বোধ’য় জানে না আইন; নোটিশ পাঠিয়ে দাও।
আরো যত বুদ্ধি আছে—বরাবর প্রয়োগ করো
তলপেটে লাথি
অথবা কাতুকুতু দিয়ে
বেজার ছেলেকে হাসাতেই হবে।

এই শীত বার্তাবহ—এই মিনার
অস্ফূটে পৃথিবীর নতুন কোলাহল

বাক্য-স্বাধীনতায়
নিদ্রা ভাঙে আদিম পদ্ধতিতে।
মনে মনে আমিও শিশুতর
রাতের মুহূর্তে জ্বালিয়ে দিচ্ছি অন্ধকার।

শাস্তির কথা অন্তহীন ভেবেও জেগেছি
মহানীরবতায়, মুছে দিচ্ছি ঘুম থেকে
রাতের পাহাড়। জীবনের মানে বুঝতে 
আমি জন্মাবো কতবার? তোমার কাছে
যেতে কোন উছিলা লাগে না, শবের 
মগজে জাগে প্রেম—মূল্যহীন মূল্যমানে।

আমি কি পরিচয়হীন, যখন যুগান্তরেও
‘মাতৃপরিচয়ে স্থির’? এত বধিরতা—বিপুল 
আলোতে মুগ্ধতা নেই তার। কিছুই না শোন 
যদি, সামান্য তাকাও—যেটুকু অন্ধকার।

এখন কিছুটা রোদ, অপলক শব্দ
খুব সামান্য ঋতু দেখা যায় 
আরোগ্যপ্রাপ্ত বীর গুপ্তঘাতকের
দৃষ্টি এড়িয়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে বনে

দিনেদুপুরেও জ্বলে ওঠে দাঁত
কথা বলে প্রসঙ্গ বদলে দেয়

পাশের বাড়িতে মৃত এক শ্রেণি
অন্য আওয়াজ তুলে
অপ্রসঙ্গের পাশে ডাকছে আমাকে

জানি সে রক্ত থামাতে পারবে না—
তবু মনুষ্যজন্ম স্বীকার করি তার।

গ্রহণ করবো কী করে কুয়াশা-পরিচয়
ক্রমধাবমান শোকে ও বিচ্ছেদে 
পরিত্যাক্ত রাত জাগে অবেলায়।

ফিরতে চাই না আমি
ফিরে ফিরে আসে সকালের রোদ।

যাদের দেখি না অনেকদিন—পথচলতি বন্ধু
মুখচেনা লোক, সন্ধ্যাতারাটি; খবর জানি না
তাদের, না দেখে চিন্তা করি। অথচ ছিল না খুব
চেনা-পরিচয়। এই পরিণাম নির্বাক গ্রহণ করেছি।

সব কথা অস্পষ্ট খুব, সাময়িক।
মৃত্যুচিহ্নের মতো চোখের অন্তিম 
কালি—ভাসমান মেঘের শামিয়ানা
বাক্ স্মৃতিতে থাকে শুধু চিৎকার
সবার জীবনে বাঘের সাক্ষাৎ ঘটে না।

হৃদয়ের নয় পৃষ্ঠাজুড়ে আমাদের মুক্তির ইশতেহার
ব্রহ্মপুত্র ডাকে মহাজাগতিক সুরে, নৃত্যরত পাহাড়।

কারাগারে বন্দি করবে নদী! আগামী আষাঢ়-শ্রাবণে
বর্ষার গৃহবন্দি দিনে ছিন্ন মাথাগুলো জানাবে অস্তিত্ব।

অলিন্দে অচেনা শাবকের শিসটুকু চিনে রাখি
স্বনিভৃতি ভাঙবে আকাশে—ইতিহাসের পাখি।

দিক-ভুল-করা সন্ধ্যা-শ্রাবক যদি পায় আত্মপরিচয়
বড় রাস্তার অবহেলাপাশে এটুকুই ফুলের গৌরব।

ঘুমিয়ে পড়েছি বিশ্বস্ত মানচিত্রে
ঘাটে এসে ভেড়ে কলম্বাসের নাও

ম্যারিনেট-মাংসের সুবাস, কাঁচা রক্তের।
শীতল। এগুলো হরিণ না কি মানুষের?

বুকের উপরে থরথর ধাতু
একা পেয়ে নিঃস্ব করেছে 

গুলিও সমান প্রতিভা
রক্তক্ষতস্রোতে
যে শিশু আতঙ্কে বধির
সে-ই জাতিস্মর—
ভেঙে দেবে মবের প্রাচীর।

১০
উদ্ধত বন্দুক তুমি ধার্মিক নাকি ধর্মহীন?
এত রক্ত গিলেও কেন চেহারা মলিন!

এবার কী নাম দেবে আমার
সংখ্যালঘু, সর্বহারা নাকি নাস্তিক?
তোমার গুলির মাপে কোনটা সঠিক?

যে দিল শাঁখের ধ্বনি অথবা আজান
হত্যা করো না তাকে জ্বলজ্যান্ত প্রাণ।

আমারও ধর্ম ছিলো, হাজার বছর ধরে।
রাজার সেনা, তুমি বুঝবে না
                     কিছু নেই ক্ষুধার উপরে।

❑ সাম্য রাইয়ান

রাজসিংহ ঐক্য চায় হরিণের সাথে
চিতাবাঘ জানিয়েছে সংহতি তাতে৷
বজায় রাখতে হবে ঐক্যের ধারা
প্রয়োজনে নেকড়েও দেবেন পাহারা৷

বানরও রাজার সাথে মিলিয়েছে সুর
কথা শুনে মনে হয় বীর বাহাদুর!
শেয়াল লিখে দিলো রাজার বক্তব্য
বনের পশুরা পেল নাগরিক কর্তব্য৷

সামাজিক নেকড়েটা জানাল চিৎকারে
পশুশক্তি প্রতিষ্ঠা হবে বনে ও বাদারে৷
ঘোষিত হল পশুঐক্য বাধ্যতামূলক
এই দেখে সিংহের হৃদয়ে পুলক!

বনে ফিসফাস-গুঞ্জন, এ কী মহামারী
মহিষ পালিয়ে বাঁচে, ছাগল আনাড়ী৷
ঐক্যের হাত থেকে পাখিরা বেঁচেছে
মহানন্দে শকুন-চিল উড়েই চলেছে!

সিংহদুয়ারে এসে কড়া নাড়ে বাঘ
গুহার দরোজা ঠেলে সিংহ অবাক৷
সত্যিই মিটে গেছে অতীতের রেশ
এইবার একসাথে খাওয়া হবে বেশ৷

বনের প্রাণীকুল হরিণ থেকে বানর
সবাই সমান পাবে বাঘের আদর৷
সবার প্রতি সিংহের সমভালোবাসা
এইবার নেকড়েও মেটাবে পিপাসা৷

❑ সাম্য রাইয়ান

নিবন্ধিত রিকশার পিছে
মনে মনে ভেসে যাচ্ছিলাম
যেখানে আমি নাই, সেখানেও
সামান্য নিঃশ্বাস ছিলো আমার৷

প্রমাণ চাইলে ফাটল দেখাতে পারি
রক্তহীন আঁচড়, ডোরাকাটা৷

বিকেলবেলার লম্ফন— সেই থেকে
উড়ছি, অসম্ভব আলো আর আলেয়া
দ্যূতিহীন ধুকে ধুকে, নির্লিপ্ত বৃষ্টির দিকে৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

অর্ধেক জীবন গেল
তোমার দিকে চেয়ে,
বাকি অর্ধেক
তোমার কথা ভেবে!

❑ সাম্য রাইয়ান 

কিছুটা অট্টহাসি ছড়িয়ে দিলাম
ফল-বাগানের মাঝে৷ ফল ও ফলান্ধের
রইলো শুধুই বিবাহ-বিষয়-সংলাপ৷

চিন্তাগাছের জটিলতা বাড়ে শ্লথ গতির আয়ে৷
রোজ লোডশেডিং আর আগুনের উল্লাস
অশ্রুবিভাবে ভাসে রোজকার প্রতিবেশী৷

প্রাণপন অন্ধকার৷ ঐশ্চর্য ও শক্তির প্রার্থনা৷
পদতলে যুক্তির অতীত, অমান্য অপরাধ৷
তবু ভালোপ্রেম— যেন দীঘল জীবনের কোলে,
বেঁচে থাকে সুর, কাঁঠালচাপার মুখরতা!

❑ সাম্য রাইয়ান 

তামাম দুনিয়া হাতে ঘুরপাক
করে পিংপং একা ম্যাজিশিয়ান

কৈকুড়ির শেষ বেলার লোকে
নিখিল পথের পাশে
সরিষা বাগান, সবুজ পালং
অপত্য পাগলামী, আমাদের
নিজস্ব কথার প্রণালী

ক্ষান্তিহীন ছুটে যায় সে হেঁটে হেঁটে
গার্হস্থ্য রঙসব অনুগত পিছে পিছে

শত পিছুটান যেন
তাঁবু বাঁধা রশি টানটান
এত বাতাশ
তাতে জলাধার করে আহ্বান

উন্মাতাল ঢেউয়ের বুকে
দ্বিধায় ঝরে পড়ে পাতা
নাচে মাতাল, নাচে প্রতিবেশ
সাথে ম্যাজিশিয়ান।

❑ সাম্য রাইয়ান 

নিরাকার—জলের সাইরেন৷
এলো আমফান—সাফোর 
কলোনীতে৷ বৃষ্টিবৈভবে জেগে উঠি৷
শব্দ হয়৷

নিউটন, আপেলতলায় থাকো৷
বাড়িতে যেও না৷

বাড়িতে হৃদয় নেই৷
মানুষভর্তি বেদনা৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

বিকেলের মগ্ন নির্জনতা পেরিয়ে
অবিচ্ছিন্ন শেকড়তম উচ্ছ্বাসে, মোহে—
প্রতিফলিত হই চিত্রনদীর তীরে৷
সেইখানে মস্তিষ্কের মতো বিক্ষিপ্ত
কলহআয়োজন পরিণত হয় তুমুল তরলে৷

বিগত সমুদ্র যেমন সাক্ষ্য দেয় অন্তঃসার সমারোহ—
চিন্তাতোড়ন কৌশলে 
চলে ঘুমহীন পথে রিক্সা,
কেবল জেগে থাকে খনিজ
                              ব্রাত্য প্রক্রিয়ায়৷

উন্মুক্ত— শোভমান, মহাবিস্তৃত
মানুষের শিল্পকলায়
যাত্রাপুরীর প্রাচীর করে সৌধনির্মাণ!
সুসজ্জিত পশুপাখি, খাবারের সমারোহ
বিরাট বিপনী এই— টাকার মণ্ডপ৷

ঘুরে ঘুরে দেখা হলে, ধীরে, মহাদৈত্যরা
চলে যায় তীক্ষ্ণতীর ঘেঁষে৷ তথাপি জেগে থাকে
শুল্ক আদায়ের চোখ, পরখ করে দলবদ্ধ কণা৷

নানারকম ধারণার পাহাড়ে—
না, প্রকৃত টিলায় দাঁড়িয়ে আমরা
দেখি মানুষের বিবরণ৷ মহাপ্লাবনের 
যাত্রীসকল, তুমুল ধুলায়, বিষণ্ন
রঙের ভেতর ম্লান হয়ে যায়৷
হাতে ও মাথায় খাদ্যসম্ভার, আর কিছু গার্হস্থ্য
প্রেমভালোবাসা; যেন কয়েকশত বৎসরের এ যাত্রা৷

ভৌগোলিক সৌন্দর্য কুয়াশায় বিচিত্ররূপ নিলে
প্রাচীরচিত্র থেকে মাত্রাযুক্ত যাত্রাপুর
মগ্ন হতে থাকে আত্মরতিতে, ক্রমে ক্রমে শব্দহীন!

❑ সাম্য রাইয়ান 

আলোগুলো লাল আর নীল
টলমল করে

চারটে লোকের ভারে কেঁপে ওঠে
ইঞ্জিনের ঘোড়া৷
টগবগিয়ে
কেঁপে কেঁপে ওঠে সমূহ পথের দিশা…
নেমে যাই

এই রাস্তা চলে গেছে
অধিকতর নিঃসঙ্গতার দিকে৷
পুরনো শহরে বয়সী শামুক, হেঁটে যায়
অক্ষয়দাস লেন পেরিয়ে—

পকেটে মুদ্রা নাচে৷
গলির মুখে নাচে পুলিশের গাড়ি৷

বেদনাহত কোকের বোতল ছুঁয়ে
নৈশ বন্ধুর সাথে ট্রাফিক পেরিয়ে হাঁটি৷
অদেখা প্রতিবেশিনীর নিঃশ্বাস কাঁধে
টের পাই, আমরা তখন মেঘের ছায়ায়
অন্ধকার, বৃষ্টিহীন গ্র্যাণ্ড এরিয়ায়!

❑ সাম্য রাইয়ান 

চিরকাল, তুমি চোখের ভেতরে হামিংবার্ড পোষ—
হামিংবার্ড; ঋতুহননের কৌশল শেখা হলে
ক্রোধের বসন্ত জাগিয়ে সারাদিন, দাওয়ায় বসে
থাকো! —নাচের পুরনো মুদ্রা৷
আদিম কসরত থেকে নেমে আসে অমীমাংসিত
আগুনের অপেরা৷ সফরকাণ্ড থেকে জলের
গভীর-নিম্নস্তরে প্রথম আকাশ দেখা যায় না৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

বিবাহবার্ষিকীতে নিষ্পত্র ছিলাম৷ অঘোষিত
ভঙ্গিতে নেমে এলো প্রেম, যেভাবে সন্ধ্যে নামে
ব্রহ্মপুত্র তীরে৷ সম্মোহনী সংগীতে জাগে
কুয়াশার সমূহ কম্পন৷ নিয়তিবৃক্ষ ছিঁড়ে যায়৷
চাঁদ নেমে আসে জলের মোহনা আর ফসলের ক্ষেতে৷

নিউট্রাল বিউগলে জাগে দিনের সকল
রাত৷ 
জগতে সকলই রাজনীতি আর 
আর্থিক আলোচনা
তবুও তখন দুমদাম লাল, আমার নিটোল বুকে৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

জিহ্বা অব্দি নবান্ন এসেছে নেমে
ঘূর্ণায়মান ছায়া সমূহ দেয়ালে;
— আছড়ে পড়তে কিছু বাকি৷

রৌদ্র লুপ্ত নগরী বেরিয়ে আসে
আবেগে, মানুষের মতোই, যেন
নড়েচড়ে ওঠে৷ ফলত মরে যায়৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

অসুস্থ ভোরের মুখে দাঁড়িয়ে
ভাবি, কার কাছে যাবো!
বরই পাতার দেশ, উপ-দেশ
                           এ কেমন ঝরনাধারা?

জ্বরের মূর্ছনা! ভোর থেকে রাত৷

কবরভূমিতে দাঁড়িয়ে
থাকে, অন্ধকার ফলানো
                          চুপচাপ গাছ৷

মরহুম পাতাগুলি শুধু
আটকে থাকে জীবনের ’পরে৷
সহজ বেদনা নিয়ে
অর্ঘ্যডালা জাগে
জ্বরের মৌনতা ভেদ করে৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

ডানা আঁকো—সশব্দে ঝাপটাও
ডাকছে ব্যাকুল নদী

শিহরিত৷

হেঁটে হেঁটে আমি পৌঁছলাম
নদীর কাছে৷ অনেক মানুষ—
যারা হৃদয় ফেলে এসেছে 
ধরলার জলে; সকলে
একত্রিত আজ৷ হারানো 
হৃদয়ের গান শুনছে মেয়েটি—
ছেলেটিও৷

হাটু মুড়ে ওর পাশে বসি
আমি তো যাবো না কারো সাথে

তোমার উপশিরা
যেদিকে এঁকেছে পথ
শুধু সেই দিকে যাবো৷
অন্য কোনো জলে
যাবো না৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

ওই যে ডালিম গাছ
মৃত মানুষেরা তার মূল চিবিয়ে খায়!

অথচ এইখানে
বৃক্ষছুঁয়ে
ঝুলে আছে দু’টো
স্বর্গীয় ফল৷ গ্রহণ বারন৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

গণিত থেকে সূত্র তুলে নাও৷
যেভাবে জল থেকে
তুলে নাও জলের টুকরো জল৷

দূর থেকে ধেয়ে আসা
কুকুরের ডাক, জানে মিলিয়ে দিতে
কাছের কান্না
গাছের ব্যাকুলতা৷

রোজার রাতে
অহেতুক পায়চারী করো, কেন
তোমার ঘুম আসে না?
উঠোনে বেরিয়ে দেখ
                      অপার আকাশ৷
ছাদের বাগানে দ্যাখো
                      অতিক্রান্ত পাখি!

ঘুমিয়ে পড়েছে যে
শব্দ করো না তার নিকটবর্তী দেশে৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

কিছু রোদ এসে আছড়ে পড়ছে মাঠে
মেয়েদের মতো—

পৃথিবী এক ঢেউ ভুলে যাওয়া নদী!

বেহায়া কুকুরদল
সস্নেহে তোমার সাথে—

যতোটা দেখে তুমি পৃথিবীকে ভাবো
পৃথিবী আসলে তার পর থেকে শুরু!

পাখি নেই
তবু ডানা ঝাপটানো আছে৷
দূরের আকাশে তার
উথাল-পাথাল শব্দ
হাসিঠাট্টায় লুকানো জীবাশ্মের মতো
জীবন বলপয়েন্ট
আপনি ফুরিয়ে যায়

আরও কিছু ফুল তোলা কাজ
নকশিকাঁথা, কোথায় হারায়?

❑ সাম্য রাইয়ান 

মানুষের প্রতি নিষ্ফল প্রণয়যান
এড়িয়ে চলেছি আমি৷ দেখেছি
সেসব জীবনের ব্যর্থ অভিযান৷

মৃত্যুকে নেমন্তন্ন করে
দরজা আটকে বসে আছি৷
চারিদিকে শুধু মানুষ৷

বাড়ির মোড়ে মানুষ
বাজার ভর্তি মানুষ৷
গোরস্থানে মানুষ আর
হাসপাতালগুলো ফাঁকা৷

জ্বরের পাশ দিয়ে ফুলকুমার—
ভরা পূর্ণিমায় বাড়িতে থাকতে নেই৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

পথ ভুলে যাই হলুদ বাতি দেখে৷
রাত কি ফুরিয়ে যায়নি তবে!

শহর ঘুরে এলাম
কারও সাথে দেখা হয়নি৷
যেমন হয় না তোমার সাথে 
                                বহুদিন৷

কার পাশে ঘুমিয়েছি
মনে থাকে না৷

দাড়ি বড় হয়ে যাচ্ছে৷

সামান্য বাতাশেই বুক কেঁপে ওঠে৷

রাতের চোখজুড়ে
হলুদ আলোর ঝড়৷

জাগছে চোখের নিচে চাঁদ
আর ক্ষুধা বেড়ে যাচ্ছে৷

❑ সাম্য রাইয়ান 

টাইপরাইটারের খট্ খট্ শব্দে শীত নামছে!

গভীর
মুদ্রিত
হচ্ছে

আর বেশি নয়, প্রকাশিত হবে ভোর
সোনালী রোদে
এলোচুলে
পাঠ করবে ঝিমলি, সকালকে…

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *