দাঁত মাজা আর চাকু ধার দেয়ার মধ্যে আদতে কোন পার্থক্য নেই, যদিও বিষয়দুটিকে আলাদা মনে হয়
তার একটা গ্লাস ছিল। সেই গ্লাসে সে জলপান করত। অবশ্য দুধপানও করত। তবে ইদানীং প্রকৃত দুধপ্রাপ্তিজনিত দ্বন্দ্ব এবং মূল্যবৃদ্ধিহেতু জলপানপাত্র হিসেবেই তা থিতু হয়েছে। তবে আরো একটা বিশেষ ক্ষেত্রে এর নিয়মিত ব্যবহার লক্ষ্যনীয়, চাপানক্ষেত্রে। বাড়িতে খুব একটা, প্রায় কখনোই চা বানানো হয়ে ওঠে না; বিশেষ সময় ছাড়া। তাই প্রতিদিন সকালে পাশের চা-দোকানে যেতে হয় ঐ গ্লাস নিয়ে। আর দোকানী সকালেই বেশ ব্যস্ত-ব্যস্ত একটা ভাব নিয়ে উচ্চ থেকে, আশীর্বাদের মতো, গ্লাসে ঢেলে দ্যায় চা।
আমরা প্রতিদিন যাওয়া-আসার মাধে পূর্বাংশে/অনুচ্ছেদে বর্ণিত চা-গ্লাসযুক্ত দৃশ্য অবগত হই। অত্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া এই দৃশ্যের প্রতি আমার বিশেষ মনোযোগ জন্ম নিতো না, যদিনা আমার মানবতাবাদীফ্রেন্ডটি এই বিসয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। আমি ব্যাথিত হই... আহারে... ওহ্...
মেশিনচালিত শহুরে দিনরাত্রি
আবার প্রথম থেকে, নতুন করে লিখছি পুরোটা
বিগত সময়ের কর্মকে কেটেকুটে, ব্যাপক
কাটাকাটি হলেও নতুনে রয়েছে ছাপ, পুরানের
চিহ্নিত হচ্ছে ধীরে, না-লেখা কলম, তেলের কাগজ
তা-হোক, তবু আবিষ্কৃত হোক প্রকৃত যাপন
আদিম শ্রমিক আমি; মেশিন চালাই।
মেশিনে লুকানো আছে পুঁজির জিন
চালাতে চালাতে দেখি আমিই মেশিন
- মেশিন । সাম্য রাইয়ান
শহরে প্রতিদিন একই মানুষ
একই ভাবে
একই সময়ে
একই পথে
একই গন্তব্যে চলে যায়।
একটার পর একটা দিন, একটার পর একটা রাত, একটার পর একটা মাস কেটে যায়। বাবার ঘাড়ে থাকাকালীন সময়গুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। আমার সাবেক মানবতাবাদীফ্রেন্ডটি বহুজাতিকের গু-মুত চেটেচুটে বেশ আয়রোজগারের একটা ব্যবস্থা করে লুম্পেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েও, পৃথিবী নাট্যশালাহেতু এই রঙ্গমঞ্চে সমাজ-উন্নয়নকর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে থাকে।
দোকানী আশীর্বাদ করে গুচ্ছগ্লাসে
তাদের প্রত্যেকের একটা করে গ্লাস আছে। সেই গ্লাসে তারা জলপানকরে, চাপানকরে। একটিমাত্র টিউবঅয়েল থাকার কারনে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে গ্লাস বাড়ায়, জলপানকরে। চা-দোকানের বাইরে, উঠোনে বসে, আশীর্বাদ করার মতো করে নিজ গ্লাস বাড়ায়, চা নেয়; চাপানকরে। দোকানীর ব্যস্তভাব কখনোই কাটে না।
পৃথিবীর দেহে ধার হচ্ছে জঙধরা চাকু
দীর্ঘদিন পর একসকালে আমি ঐ পথে যেতে তাকে দেখতে পাই, এভাবে তাকে আমি কখনো দেখিনি, তার ঐ গ্লাসটি ছাড়া, সে তখন দাঁত মাজছে...
পৃথিবী খুব একটা মজার জায়গা না
❏ সাম্য রাইয়ান
এমনই অন্ধকার, যেন পৃথিবী গাছের গহ্বর৷ শরীর থেকে তার পালক খ্বসিয়ে দিলে, আহা গাছ, মগ্ন সে গাছ, ওর জন্য আমার খারাপ লাগে৷ এ মাদকতা দুঃসহ৷ মৃত মানুষের অনুভূতি জাগিয়ে দেয়৷ আমব্রেলা ভালোবাসা কালি থেকে বেরিয়ে বাহারি দরজা খুঁজে ফেরে৷
একদিন দেখে নিও ঘুমিয়ে নেবো ঠিক৷ আজ তো ঘুম হলো না, কালও হয়নি৷ হবে না তা তো নয়৷ একদিন ঘড়ির কাটা পেরিয়ে ঘুমিয়ে নেবো ঠিক৷
পৃথিবী খুব একটা মজার জায়গা না৷ ভেবেছি এখানে এসে প্রেমের দেখা পাবো, কোথায় আমার প্রেমিকা, হাওয়া…৷ আমার সাথে তার দেখা হলো না৷ অযথা এদিক সেদিক ঘুরলাম, আগের জীবন ভাবলাম, সুখী ছিলাম৷ তুমি কই? তীব্র গতিতে পার করো হাওয়া৷ পৃথিবী অতোটা মজার জায়গা না৷
এখানে কোথাও প্রেম নাই, জানো? ভালোবাসা নাই৷ মিথ্যা বলেছে আমাদের৷ প্রেম আসলে সুবিধার জিনিশ না৷ একদিন হৃদয়ের ছবি দেখে জামা কিনলাম৷ সেই জামা কেনার ফলে আমি দুইটি হৃদয়ের মালিক হলাম৷ জামার হৃদয় আমার জন্য রেখে অন্যটা কুচি কুচি কেটে হালকা লবন দিয়ে সেদ্ধ করলাম; বিকেলে বন্ধুর দাওয়াত৷
আমার আছে জ্বর; পথে ঘোরেফেরে এক জ্বরাক্রান্ত মন৷ কাউকে বলা হয় নাই৷ আছি, কেমন? যেমন থাকি আরকি৷ চায়ের কাপ এদিকে তাকায়, মন খারাপ না কি? তিন ভাগ জলে হেসে বলি, কাজের অনেক চাপ এখন৷ জিহ্বায় চায়ের স্বাদ লেগে থাকে আর একজন হাত ধরে ক্ষমা চায়৷ আমার সহিত ঘোরে জ্বরাক্রান্ত মন৷
নদীর টানে বিধ্বস্ত হয়ে হয়ে মাটিতে মিশে গেলাম৷ দৃষ্টিসীমায় দেখি প্লাবন— মনে হয় সে তো অন্য কেউ নয়, এই আমি— যার সাথে দেখা হলে পথে মাইশা চিৎকার করে ডাকে— পাগলা দাদা কই যাও? শিশুটি খলখলিয়ে হাসে৷ জগৎ বিদীর্ণ করে হাসে৷ আমিও হাসি৷ হাসতে হাসতে বলি, পকেটে হাঁসের বাচ্চা আছে, নিবি?
ওরা চলে যায়, অতীব জলের মতো— আসে দূর দূরান্ত থেকে— আসে হৃদয়ের নিকটগ্রাম থেকে৷ আসুক যতো, হোক চোর-পুলিশ খেলা, বসুক বাঘবন্দি মেলা৷ আড়ালে আবডালে হোক আয়োজন, যা কিছু রহস্যের মতো— তা থাকুক রহস্যই৷ এই ভেসে যাওয়া আশ্চর্য অঙ্গনজুড়ে— আসে শিউলীমাস৷ ফুটে ওঠো তুমি— শিউলী-বকুল৷
বাঘ
বিষাদগ্রস্ত
মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল
পৃথিবীতে মৃত্যুই একমাত্র প্রাকৃতিকজন্ম মানেই কৃত্তিমতা, আধিপত্যের জয়গান
একটি ফড়িং উড়ে গ্যাছে আমার মন থেকে
আমি তাকে পুনর্বার মনে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত
প্রকৃতির পূর্ণদেহে যেটুকু ক্ষত
তা আমারই অবদান;
অদক্ষ সাঁতারু শয়তান, হাবুডুবু খায় পুকুরে
এবং মেয়েতিনটি আত্মহত্যাই করল! পুনর্বার ভাববার কোন অবকাশ রইল না তাদের। পত্রিকায় প্রকাশ, গত দুইদিনে তিন ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ...তারা আত্মহত্যা করেছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়েই তিনজন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
‘যতোই চেষ্টা করো পালাতে- তবুও তোমাকে ধরবে মৃত্যুই- জীবন থেকে যাবে অধরাই- কোন এক সময় তুমি ধরা পড়বে এভাবে- মৃত্যুর কাছে- এবং পড়তেই থাকবে- পড়তেই থাকবে- পড়তেই থাকবে- তোমরাই- অবশেষে একবারই আটকা পড়ে- বন্দী থাকবে খাঁচার ভেতর-’
পৃথিবীর সমস্ত যৌন নিপীড়িত মানুষের প্রতি উৎসর্গীকৃত