গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

❑ সাম্য রাইয়ান 

ঘরের জানালা এক বিরতিহীন টেলিভিশন৷ এই পথে বর্ণিল আকাশ দেখা যায়, চলন্ত পাখি গোণা যায়৷ অসময়ে মুগ্ধ হয়ে বসে থাকা যায়৷ বৈশ্বিক ব্যাসার্ধে সুদীর্ঘ শ্বাস উড়িয়ে দেয়া যায়৷ জানালা পার হতেই ওদের ডানা গজায়— পাখি হয়ে উড়ে যায়৷ একেকটি দীর্ঘশ্বাস কেন তোমার কাছে পৌঁছে না? তোমার পায়ের কাছে৷ তোমার করকমলে!

নাহ্ এভাবে না, বুঝতে পারছি, এভাবে হচ্ছে না ঠিক৷ সরু গাছ হেলে পড়লো অন্যের বাড়ি! ন্যায় হলো? গাছেরও আছে কি নীতি-নৈতিকতা! মানুষহীন হয়ে উঠতে দুর্বোধ্য সংগীতে বেড়ে উঠছি৷ অসাধ্য এ রাগ? যন্ত্রে উঠলে পরে গলার সংগীতে জাগবে সে, জাগুক৷ কিছু কি বেশি হয়ে যাচ্ছে? ফিরতি জলের মতো, বারবার ফিরিয়ে আনতে চাই—৷ আবহাওয়া দফতর বলেছে, জানে না জলের কথা— মেঘের খবর৷ আকাশে তাক করে শ্বাসের প্রোটিন, ভাবছি পড়বো প্রেমে, লিখবো রোদের কথা৷ মাথা ধরে খুব, ঐ তো আগেরই মতো, ঝিমঝিম করে৷ কোথাও কোনো বদল নেই৷ বাদল নেই৷ এ ‘বাদল’ সে বাদল নয়৷ বাদল আমার বন্ধুর নাম৷ ছোট্ট প্যারাগ্রাফ লিখেছিলাম যাকে নিয়ে, খুশি হয়ে স্যার উপহার দিয়েছিলো৷ স্যারকে বলা হয়নি, বাদলকে আমি পছন্দ করতাম কী না জানি না৷ তিনি কখনো জানবেন না, তার দিকে ছুঁড়ে দেয়া সকল কাগজ মিথ্যে, সকল প্রেম মিথ্যে, সকলই সকল— তুচ্ছ আলো!

বাদল নিয়ে আর এক শব্দও নয়৷ রোদের কথা হবে৷ খাতার পৃষ্ঠাজুড়ে চিকচিক করবে রোদ্দুর৷ কবিতায় ঝিলমিল রোদ্দুর হবে হোক৷ হয় না যেন মনে, রিম-ঝিম-ঝিম বৃষ্টির মতো শোক!

হাঁটতেছিলাম তোমার ভেতর দিয়ে
পুরোনো দেয়াল উঠছে হাঁফিয়ে৷

নদীর ধারে জল পতনের স্বর৷
তীব্র থেকে তীব্রতর হয়
গভীর রাতে গভীরতর ভয়৷
বিষাদ ধাতু এগিয়ে আসে যখন
নিশ্চিত করে আমার পরাজয়৷

ছাই উৎপাদন ছাড়া যে আগুনের কোনো সম্ভাবনা নেই, তার মূল্য ভেবে ভারাক্রান্ত মন৷ এই ভার বয়ে পৃথিবীর ওজন বেড়ে যাচ্ছে৷ মন ভালো হও— মন ভালো হও— সুস্থ-সহজ হও— প্রেমের শিকার হও—৷ 

চুপচাপ, মনে হয়, তবু যেন কেউ ওই পাড়ে আছে৷ কোনো কথা নেই, সাড়াশব্দ থেমে গেছে কত আগে! কখনো জলের মতো মৃদু বুদবুদ হয়ে জাগে! দু'ঝুটি চুল ঘুমিয়ে পড়েছে কবে…৷ ঘুমাচ্ছে কুয়াশা গুটিয়ে আস্তিন; থেমে থেমে আসে তুমুল বৃষ্টিদিন৷

ঘুমিয়ে পড়েছে শব৷ ঘুমিয়ে পড়েছে কোলাহল৷ ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম৷ ঘুমন্ত মার্বেল, শুধুই গড়িয়ে যায়৷ গড়িয়ে গড়িয়ে আসে বিদীর্ণ আলোর ধারা৷ আসে তীব্রবেগে! গতির সূত্র জানি না৷ ঘুমের মন্ত্র জানি না৷ জারিজুরি বন্ধ হলো সূত্রের অভাবে৷ গাছে উঠতে পারি না৷ মাছ শিকারেও অক্ষম৷ ঘুম থেকে উঠি আর ভুলে যাই এখন মধ্যরাত কী দুপুর! পাজেল মেলে না আমার৷ ওহ্ পাজেল… ওহ্…! তারও কি সূত্র ভুলে গেছি! কীভাবে ভুলে গেলাম? অথবা মনে হয় কখনো জানাই হয়নি৷ কী করে জানবো, আমি তো মূর্খ আকাঠ৷ স্বাদহীন গ্লিসারিন৷ অনেক চেষ্টা করতে হলো৷ মেলালাম হলুদ পাজেল৷ হলুদ পাহাড় দেখে হলুদ মেলালাম, মনে হলো৷ সত্যি কথা: হলো না৷ পৃথিবী হলুদ হলো, হলুদ হলো দিন, হলুদ রঙের মাঝে শাদা দু'টো কিউরিসিটি ঢুকে গেল! শাদা মন, সাধারণ? শ্যামল মনকে ভালোবাসি৷ শ্যামল পাজেল৷ ধানের ক্ষেতের মতো, শ্যামল ফুলের মতো, শ্যামল সন্ধ্যের মতো৷ একা হতে হতে তুমি ফিরে যাও পুরনো জলের তীরে৷ মিশে যাও জলজ প্রাণীদের ভীড়ে৷ কত মীন— ভেসে হাবুডুবু লুটোপুটি—৷

  সাম্য রাইয়ান 

তার একটা গ্লাস ছিল

তার একটা গ্লাস ছিল। সেই গ্লাসে সে জলপান করত। অবশ্য দুধপানও করত। তবে ইদানীং প্রকৃত দুধপ্রাপ্তিজনিত দ্বন্দ্ব এবং মূল্যবৃদ্ধিহেতু জলপানপাত্র হিসেবেই তা থিতু হয়েছে। তবে আরো একটা বিশেষ ক্ষেত্রে এর নিয়মিত ব্যবহার লক্ষ্যনীয়, চাপানক্ষেত্রে। বাড়িতে খুব একটা, প্রায় কখনোই চা বানানো হয়ে ওঠে না; বিশেষ সময় ছাড়া। তাই প্রতিদিন সকালে পাশের চা-দোকানে যেতে হয় ঐ গ্লাস নিয়ে। আর দোকানী সকালেই বেশ ব্যস্ত-ব্যস্ত একটা ভাব নিয়ে উচ্চ থেকে, আশীর্বাদের মতো, গ্লাসে ঢেলে দ্যায় চা।

প্রতিদিন যে দৃশ্যে আক্রান্ত হতে হতে

আমরা প্রতিদিন যাওয়া-আসার মাধে পূর্বাংশে/অনুচ্ছেদে বর্ণিত চা-গ্লাসযুক্ত দৃশ্য অবগত হই। অত্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া এই দৃশ্যের প্রতি আমার বিশেষ মনোযোগ জন্ম নিতো না, যদিনা আমার মানবতাবাদীফ্রেন্ডটি এই বিসয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। আমি ব্যাথিত হই...  আহারে...  ওহ্...

মেশিনচালিত শহুরে দিনরাত্রি
আবার প্রথম থেকে, নতুন করে লিখছি পুরোটা
বিগত সময়ের কর্মকে কেটেকুটে, ব্যাপক
কাটাকাটি হলেও নতুনে রয়েছে ছাপ, পুরানের
চিহ্নিত হচ্ছে ধীরে, না-লেখা কলম, তেলের কাগজ
তা-হোক, তবু আবিষ্কৃত হোক প্রকৃত যাপন

আদিম শ্রমিক আমি; মেশিন চালাই।
মেশিনে লুকানো আছে পুঁজির জিন
চালাতে চালাতে দেখি আমিই মেশিন
- মেশিন  সাম্য রাইয়ান

শহরে প্রতিদিন একই মানুষ
একই ভাবে
একই সময়ে
একই পথে
একই গন্তব্যে চলে যায়।

একটার পর একটা দিন, একটার পর একটা রাত, একটার পর একটা মাস কেটে যায়। বাবার ঘাড়ে থাকাকালীন সময়গুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। আমার সাবেক মানবতাবাদীফ্রেন্ডটি বহুজাতিকের গু-মুত চেটেচুটে বেশ আয়রোজগারের একটা ব্যবস্থা করে লুম্পেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েও, পৃথিবী নাট্যশালাহেতু এই রঙ্গমঞ্চে সমাজ-উন্নয়নকর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে থাকে।

দোকানী আশীর্বাদ করে গুচ্ছগ্লাসে

তাদের প্রত্যেকের একটা করে গ্লাস আছে। সেই গ্লাসে তারা জলপানকরে, চাপানকরে। একটিমাত্র টিউবঅয়েল থাকার কারনে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে গ্লাস বাড়ায়, জলপানকরে। চা-দোকানের বাইরে, উঠোনে বসে, আশীর্বাদ করার মতো করে নিজ গ্লাস বাড়ায়, চা নেয়; চাপানকরে। দোকানীর ব্যস্তভাব কখনোই কাটে না।

পৃথিবীর দেহে ধার হচ্ছে জঙধরা চাকু

দীর্ঘদিন পর একসকালে আমি ঐ পথে যেতে তাকে দেখতে পাই, এভাবে তাকে আমি কখনো দেখিনি, তার ঐ গ্লাসটি ছাড়া, সে তখন দাঁত মাজছে...

❏  সাম্য রাইয়ান 

এমনই অন্ধকার, যেন পৃথিবী গাছের গহ্বর৷ শরীর থেকে তার পালক খ্বসিয়ে দিলে, আহা গাছ, মগ্ন সে গাছ, ওর জন্য আমার খারাপ লাগে৷ এ মাদকতা দুঃসহ৷ মৃত মানুষের অনুভূতি জাগিয়ে দেয়৷ আমব্রেলা ভালোবাসা কালি থেকে বেরিয়ে বাহারি দরজা খুঁজে ফেরে৷

একদিন দেখে নিও ঘুমিয়ে নেবো ঠিক৷ আজ তো ঘুম হলো না, কালও হয়নি৷ হবে না তা তো নয়৷ একদিন ঘড়ির কাটা পেরিয়ে ঘুমিয়ে নেবো ঠিক৷

পৃথিবী খুব একটা মজার জায়গা না৷ ভেবেছি এখানে এসে প্রেমের দেখা পাবো, কোথায় আমার প্রেমিকা, হাওয়া…৷ আমার সাথে তার দেখা হলো না৷ অযথা এদিক সেদিক ঘুরলাম, আগের জীবন ভাবলাম, সুখী ছিলাম৷ তুমি কই? তীব্র গতিতে পার করো হাওয়া৷ পৃথিবী অতোটা মজার জায়গা না৷

এখানে কোথাও প্রেম নাই, জানো? ভালোবাসা নাই৷ মিথ্যা বলেছে আমাদের৷ প্রেম আসলে সুবিধার জিনিশ না৷ একদিন হৃদয়ের ছবি দেখে জামা কিনলাম৷ সেই জামা কেনার ফলে আমি দুইটি হৃদয়ের মালিক হলাম৷ জামার হৃদয় আমার জন্য রেখে অন্যটা কুচি কুচি কেটে হালকা লবন দিয়ে সেদ্ধ করলাম; বিকেলে বন্ধুর দাওয়াত৷

আমার আছে জ্বর; পথে ঘোরেফেরে এক জ্বরাক্রান্ত মন৷ কাউকে বলা হয় নাই৷ আছি, কেমন? যেমন থাকি আরকি৷ চায়ের কাপ এদিকে তাকায়, মন খারাপ না কি? তিন ভাগ জলে হেসে বলি, কাজের অনেক চাপ এখন৷ জিহ্বায় চায়ের স্বাদ লেগে থাকে আর একজন হাত ধরে ক্ষমা চায়৷ আমার সহিত ঘোরে জ্বরাক্রান্ত মন৷

নদীর টানে বিধ্বস্ত হয়ে হয়ে মাটিতে মিশে গেলাম৷ দৃষ্টিসীমায় দেখি প্লাবন— মনে হয় সে তো অন্য কেউ নয়, এই আমি— যার সাথে দেখা হলে পথে মাইশা চিৎকার করে ডাকে— পাগলা দাদা কই যাও? শিশুটি খলখলিয়ে হাসে৷ জগৎ বিদীর্ণ করে হাসে৷ আমিও হাসি৷ হাসতে হাসতে বলি, পকেটে হাঁসের বাচ্চা আছে, নিবি?

ওরা চলে যায়, অতীব জলের মতো— আসে দূর দূরান্ত থেকে— আসে হৃদয়ের নিকটগ্রাম থেকে৷ আসুক যতো, হোক চোর-পুলিশ খেলা, বসুক বাঘবন্দি মেলা৷ আড়ালে আবডালে হোক আয়োজন, যা কিছু রহস্যের মতো— তা থাকুক রহস্যই৷ এই ভেসে যাওয়া আশ্চর্য অঙ্গনজুড়ে— আসে শিউলীমাস৷ ফুটে ওঠো তুমি— শিউলী-বকুল৷

❑ সাম্য রাইয়ান

আমার মেয়েটি কিছুদিন থেকে বাঘের মাংস খেতে চায়। ‘বাঘ-বাঘ’ করে স্বপ্নে চিৎকার করে আমায় জড়িয়ে ধরে বলে, ‘বাঘ—আমি বাঘের মাংস খাবো।’

বাঘ খুঁজতে বাজারে গিয়েছিলাম। পেলাম না। মেয়ে বললো, ‘বাবা চলে জঙ্গলে যাই; জঙ্গলে অনেক বাঘ আছে।’

বউকে সাথে নিয়ে জঙ্গলে হাজির হলাম বাঘ খুঁজতে। অপেক্ষায় থেকে থেকে ক্লান্ত হয়ে হঠাৎ দূরে বাঘের গর্জন শুনতে পেলাম। সতর্ক আমি, ধীরে—ট্রিগার চেপে দিলাম। গুলি বেরিয়ে লাগলো বাঘের পেটে। শব্দ হলো অনেক।

কোত্থেকে যেন অতর্কিত চিৎকার এলো, ‘ফায়ার’৷

একটা গুলি আমার কানের পাশ দিয়ে গেল। আমিও গুলি ছুঁড়লাম। গোলাগুলি হলো বেশ। দেখি—বউটা আমার পড়ে আছে, পাশে মেয়েটাও। চিৎকার করে ডাকলাম, ‘বউ ওঠো, ওঠো বাঘের বাচ্চা!’

কেউ উঠলো না। কারও ঘুম ভাঙলো না! শুধু পুলিশ এলো।

আমাকে আদালতে তোলা হলো। বাঘ মেরেছি বলে ১২ বছরের কারাদণ্ড হলো আমার। শাস্তির ভারে নূয়ে পড়ে বললাম, ‘আমার স্ত্রী-কন্যা তাদের হত্যার শাস্তি কেউ পাবে না?’
আদালত বললেন, ‘অবশ্যই আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে।’

❑ সাম্য রাইয়ান

জ্ঞানত, ছন্নছাড়া মৌমাছি হামলে পড়েছিলো, কামড়ে দিয়েছে শরীরে। সেইসব মাছিদের মাতাল কামড়ে উন্মত্ত বোকাপাখিটি সাধুর কাছে জানতে চাইলো, ‘বিষাদগ্রস্ত মনকে আনন্দিত করার উপায় কী?’

সাধু মুচকি হেসে বিষণ্ণ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবলেন, আমারই ভীষণ মন খারাপ, কাকে বলি!

পৃথিবীতে মৃত্যুই একমাত্র প্রাকৃতিক
জন্ম মানেই কৃত্তিমতা, আধিপত্যের জয়গান
একটি ফড়িং উড়ে গ্যাছে আমার মন থেকে
আমি তাকে পুনর্বার মনে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত
প্রকৃতির পূর্ণদেহে যেটুকু ক্ষত
তা আমারই অবদান;
অদক্ষ সাঁতারু শয়তান, হাবুডুবু খায় পুকুরে

এবং মেয়েতিনটি আত্মহত্যাই করল! পুনর্বার ভাববার কোন অবকাশ রইল না তাদের। পত্রিকায় প্রকাশ, গত দুইদিনে তিন ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ...তারা আত্মহত্যা করেছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়েই তিনজন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

‘যতোই চেষ্টা করো পালাতে- তবুও তোমাকে ধরবে মৃত্যুই- জীবন থেকে যাবে অধরাই- কোন এক সময় তুমি ধরা পড়বে এভাবে- মৃত্যুর কাছে- এবং পড়তেই থাকবে- পড়তেই থাকবে- পড়তেই থাকবে- তোমরাই- অবশেষে একবারই আটকা পড়ে- বন্দী থাকবে খাঁচার ভেতর-’

এবং এই প্রেমব্যর্থ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা প্রকাশ রয়েছে। একেক দিনের একেক রগরগে বর্ণনা; ছেলেটি এগিয়ে যাচ্ছিল মেয়েটির দিকে, একপায়ে- দুইপায়ে, মেয়েটি পেছাচ্ছিল, এবং পেছাচ্ছিল, একসময় আটকে গেল, বন্ধ হয়ে গেল হৃদক্রিয়া, পিঠ ঠেকে গেল দেয়ালে, তারপর- তারপরই ঘটে গেল অনাকাঙ্খিত (না-কি কাঙ্খিত) ঘটনাটি। এভাবেই চলছিল- চলত- যদিনা বিয়ের প্রশ্ন তুলত মেয়েটি- এরপর- কিছুদিন কোন খোঁজ পাওয়া যায় না ছেলেটির!

মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে  ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু ভাবতে  ভাবতে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকেছিল মেয়েটি সবকিছু

এসবই কেন যেন মনে হচ্ছিল তার, বারবার। এইসমস্ত চিন্তা মাথা থেকে বিদায়ের চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। হোক, তবুও সে চেয়ার বের করল টেবিলের তল থেকে- পজিশন পছন্দ করলো- শক্তমতো- ফ্যানই পারফেক্ট- ফ্যানের লোহাই উত্তম বস্তু- হ্যাঁ- এবার একটা দড়ি দরকার- মায়ের শাড়িটাই ভালো- ১৩ হাত- বেশ শক্ত আছে বলেই মনে হচ্ছে- চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলল শাড়িটা- ফ্যানে- আর একটা অংশ গলার সাথে- কীসব উটকো চিন্তা মাথায় ঘুড়ছে- আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছে পরিবেশ- ছোট ভাই-মা-বাবা- নাহ্ এইসব ভাবার সুযোগ নেই- বিদায় পৃথিবী- বিদায় মা-বাবা

একটা শব্দ শোনা গেল- বোধহয় চেয়ার পড়ে গেল- শাড়িটার পারফরমেন্স ভালোই- শক্ত করে গেঁথে গ্যাছে গলার সাথে- হঠাৎ- হঠাৎই পাল্টে গেল ভাবনা- ওলট-পালট হয়ে গেল সবকিছু- একটা অবলম্বন দরকার- আঁকড়ে ধরার- সামান্য হলেও- হ্যাঁ- কিছু একটা দরকার- অজান্তেই খুঁজছিল কোন কিছু- অবলম্বন- আঁকড়ে ধরার-
পৃথিবীর সমস্ত যৌন নিপীড়িত মানুষের প্রতি উৎসর্গীকৃত

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *