❑ সাম্য রাইয়ান
মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়েছিল, নদীর স্রোতের ভেতর নিজের সময়ের প্রতিচ্ছবি দেখেছিল, কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হঠাৎ জীবনের ভঙ্গুরতা অনুভব করেছিল, ঠিক তখনই মানুষের অস্তিত্বগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নিয়েছে কবিতা। সেই কারণেই বাঙলা কবিতার ইতিহাসে আমরা দেখি, এখানে দুইটি সমান্তরাল স্রোত ক্রমাগত সক্রিয় থেকেছে; অন্তর্লোক ও বহির্লোক। অন্তর্লোক মানে মানুষের ব্যক্তিগত বোধ, স্মৃতি, ভয়, আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, একাকিত্ব, স্বপ্ন ও অবচেতন। বহির্লোক মানে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, ইতিহাস, যুদ্ধ, অর্থনীতি, ধর্ম, শহর, প্রকৃতি ও সভ্যতার কাঠামো।
বাঙলা কবিতায় এই দুই জগত কখনো পুরোপুরি আলাদা থাকেনি। একজন কবি যখন প্রেমের কবিতা লিখেছেন, সেখানেও ইতিহাস ঢুকে পড়েছে। আবার রাজনৈতিক কবিতার মধ্যেও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, অস্তিত্বের প্রশ্ন কিংবা নিঃসঙ্গতার ছায়া এসে পড়েছে। ফলে বাঙলা কবিতা পাঠ করলে আমরা একইসাথে মানুষের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বাস্তবতার সংঘর্ষ প্রত্যক্ষ করি।
মধ্যযুগীয় বাঙলা কাব্যে বহির্লোক ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি অথবা সুফি সাহিত্যে আমরা যে জগৎ দেখি, সেখানে মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকলেও তা ছিলো বৃহত্তর ধর্মীয় অভিজ্ঞতার অধীন। চণ্ডীদাস যখন লিখছেন “সবার উপরে মানুষ সত্য”, তখন সেটি মানবতাবাদী উচ্চারনের সাথে তৎকালীন সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরূপেই হাজির হচ্ছে। ফলে বৈষ্ণব কবিতার প্রেমকে শুধু আধ্যাত্মিক প্রেম হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। রাধার বিরহে ব্যক্তিগত কষ্ট যেমন আছে, তেমনি আছে সমাজের বিধিনিষেধ অতিক্রমের তীব্রতাও।
তবে ঊনবিংশ শতকে বাঙলা কবিতা নতুন বহির্লোকের মুখোমুখি হয়। উপনিবেশবাদ, ইংরেজি শিক্ষা, আধুনিকতা, মুদ্রণযন্ত্র, শহর ও মধ্যবিত্ত সমাজ প্রভৃতি মিলিয়ে কবিতার ভাষা বদলাতে শুরু করে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই পরিবর্তনের প্রথম মহান স্থপতি। তাঁর কবিতায় ইউরোপীয় মহাকাব্যের প্রভাব যেমন আছে, তেমনি আছে ঔপনিবেশিক মানুষের আত্মদ্বন্দ্ব। মেঘনাদবধ কাব্যে তিনি রামায়ণের বহির্লোককে উল্টে দিয়ে পরাজিত চরিত্রের অন্তর্লোক নির্মাণ করছেন। রাবণ কিংবা মেঘনাদ সেখানে দানব নয়; তারা ট্র্যাজিক মানুষ হিসেবেই উপস্থিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাঙলা কবিতায় গভীর ও তীব্র পরিবর্তনের সূত্রপাত করে। কারণ এখানেই প্রথমবারের মতো ইতিহাস ও পুরাণকে প্রশ্ন করবার সাহস দেখা যায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙলা কবিতার অন্তর্লোককে মহাবিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি বিশ্বসত্তার দিকে বিস্তৃত হয়। ‘গীতাঞ্জলি’-র প্রার্থনা মানুষের আত্মিক স্বাধীনতার আকুতি নয় কি? আবার ‘বলাকা’-য় আমরা দেখি গতিময় সভ্যতার সঙ্গে মানুষের চেতনার সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মানুষের মানসিক অবস্থা ও দার্শনিক উপলব্ধির অংশ হয়ে ওঠে প্রকৃতি। বৃষ্টি, নদী, আকাশ, সন্ধ্যা সবকিছুই তাঁর কবিতায় প্রাণের স্পন্দন পায়।
তবে রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগে বাঙলা কবিতা আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, নগরায়ণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ঔপনিবেশিক শোষণ ও মানুষের বিচ্ছিন্নতা নতুন ভাষার দাবি তোলে। কাজী নজরুল ইসলাম এই সময়েরই বিস্ফোরণ। তাঁর কবিতার বহির্লোক বিদ্রোহ, সাম্য ও প্রতিরোধে পূর্ণ। কিন্তু নজরুলকে শুধুই বিদ্রোহের কবি হিশেবে চিহ্নিত করাটা তাঁর প্রতি অবিচার। কেননা তাঁর অন্তর্লোকে রয়ছে গভীর বেদনার ছাপ। প্রেম, ব্যর্থতা, বিষাদ ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান তাঁর কবিতাকে বহুমাত্রিক করেছে।
জীবনানন্দ দাশ এসে বাঙলা কবিতার ভেতর সম্পূর্ণ নতুন এক অন্তর্লোক নির্মাণ করেছেন। তাঁর কবিতায় মানুষ শহরের ভিড়ের মাঝেও নিঃসঙ্গ। ইতিহাস, সভ্যতা, স্মৃতিময়তা ও মৃত্যুচেতনা তাঁর কবিতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ‘বনলতা সেন’ তো প্রেমের কবিতা নয়; এটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ক্লান্তির পর মানুষের আশ্রয় খোঁজার কাহিনি, যার পরতে পরতে রয়েছে বাঙলার স্মৃত-বিস্মৃত ইতিহাস। তাঁর কবিতায় বহির্লোক প্রায়ই ভেঙে পড়ে ধূসরতায়। শহর হয়ে ওঠে বিষণ্ন, আর সময় ক্ষয়িষ্ণু। প্রকৃতিকে তিনি মানুষের মানসিক অবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।
আধুনিক বাঙলা কবিতার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই, কবি আর পৃথিবীকে সরলভাবে গ্রহণ করেন না। তিনি সন্দেহ করেন, প্রশ্ন করেন, ব্যবচ্ছেদ করেন। মানুষের চেতনার ভাঙন কবিতার ভাষাকেও বদলে দেয়। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে প্রমুখ কবিগণের কবিতায় জটিল চিন্তারাশি প্রবেশ করে। বহির্লোক এখানে আর সরাসরি দৃশ্যমান নয়; প্রতীক, পৌরাণিক ইঙ্গিত ও মনস্তাত্ত্বিক চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত।
বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর কবিতার বহির্লোক আরও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, একের পর এক অভ্যুত্থানের প্রভাব কবিতার শরীরে জমা হয়েছে। যার প্রভাবে শামসুর রাহমানের কবিতা হয়ে উঠেছে জাতীয় নাগরিক চেতনার দলিল। তাঁর কবিতায় শহুরে প্রতিবেশ-প্রেক্ষাপট যেমন আছে, তেমনি আছে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিগত একাকিত্ব। আল মাহমুদের কবিতায় গ্রামীণ জীবন, লোকজ সংস্কৃতি ও দেহজ ভাষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর সোনালী কাবিনের অন্তর্লোক মানবশরীর ও মাটির ঘ্রাণে ভরপুর।
আবুল হাসানের কবিতায় দেখা যায় মৃত্যু, প্রেম ও আত্মধ্বংসের প্রবল উপস্থিতি। বহির্লোক সেখানে প্রায়ই অস্পষ্ট, কিন্তু সেই অস্পষ্টতার মধ্যেও উঁকি দেয় সমাজের ক্লান্ত-বিষণ্ন মুখ। যেমন, আধুনিক সভ্যতার প্রধানতম ট্র্যাজেডি ফুটে ওঠে তার পংক্তিতে, “অবশেষে জেনেছি মানুষ একা”।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা আবার সম্পূর্ণ অন্যরকম। সেখানে প্রেম ও বিপ্লব প্যারালাল। ব্যক্তিগত বেদনা রাজনৈতিক ক্ষোভের সঙ্গে মিশে যায়। আশির দশকের বাঙলাদেশ তাঁর কবিতায় ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে উপস্থিত হয়। তিনি একইসাথে প্রত্যক্ষ করছেন রাষ্ট্রের সহিংসতা, মানুষের ডিপ্রেশন, স্বপ্নের মৃত্যু। ফলে তাঁর কবিতার বহির্লোক প্রবলভাবে রাজনৈতিক হলেও অন্তর্লোকে গভীর বিষণ্নতা কাজ করে।
সমকালীন সময়ে মানুষের বাস্তবতা দৃশ্যমান জগতের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। একজন মানুষ বাইরে যে পরিচয়ে বেঁচে থাকেন, ভেতরে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে কবিতায় খণ্ডিত বাক্য, খণ্ডিত ইমেজ, অসমাপ্ত বয়ান ও বিমূর্ততা প্রবেশ করেছে। উৎপলকুমার বসু, সৈয়দ শামসুল হক, সিকদার আমিনুল হক, শহীদ কাদরী, ভাস্কর চক্রবর্তী, বিনয় মজুমদার প্রমূখের কবিতায় আমরা এই অভ্যন্তরীণ জটিলতা দেখি।
বিনয় মজুমদারের কবিতায় গণিত, প্রেম ও উন্মাদনা একই সঙ্গে প্রতিধ্বনিত হয়। তাঁর অন্তর্লোক এতটাই তীব্র যে বহির্লোক প্রায় অনুপস্থিত হয়ে যায়। কিন্তু আসলে সেটিও বহির্লোকেরই প্রতিক্রিয়া। সমাজের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা মানুষকে নিজের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। উৎপলকুমার বসুর কবিতায় ভ্রমণ, বিচ্ছিন্নতা ও অসমাপ্ত চিত্রকল্প আধুনিক মানুষের অনিশ্চয়তারই প্রকাশ।
ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতায় বাঙলা ভাষা এক অদ্ভুত শহুরে অন্তর্লোক খুঁজে পেয়েছিল। তাঁর শক্তি ছিল ক্ষুদ্র মুহূর্তের বিষণ্নতা কবিতায় ধারন করবার ক্ষমতায়। দৈনন্দিন জীবনের অবহেলিত বা এড়িয়ে যাওয়া দৃশ্য, ভাড়া বাড়ির নিঃসঙ্গতা, রাতের শহর, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক, অকারণ বিষাদের বিবরণ এমনভাবে কবিতায় এসেছে, যা আধুনিক মানুষের অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতার ট্র্যাজেডিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। ভাস্করের কবিতার বহির্লোক তাই নাগরিক বাস্তবতা, কিন্তু তার অন্তর্লোক গভীর অস্তিত্বসংকট। ভাষা আপাত সরল হলেও ভেতরে প্রচণ্ড আবেগীয় চাপ। যেন একজন মানুষ নিজের সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে ধীরে ধীরে শব্দব্রহ্মের মাঝে আশ্রয় নিচ্ছেন।
যার কবিতায় অন্তর্লোক ও বহির্লোক পরস্পর রহস্যময় সম্পর্ক তৈরি করে, তিনি সিকদার আমিনুল হক। তাঁর কবিতার ভেতরে ইতিহাস, স্মৃতি, প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান পাশাপাশি বহমান। সমকালের উদ্বেগ সেখানে প্রবলভাবে উপস্থিত। সিকদার আমিনুল হকের বিশেষত্ব হলো, তিনি দৃশ্যমান বাস্তবতাকে প্রায়ই প্রতীকে রূপান্তর করেন। নদী, পাখি, অন্ধকার, আকাশ কিংবা দূরবর্তী শব্দ তাঁর কবিতায় মানসিক অবস্থার ইঙ্গিতে পরিণত হয়। ফলে সে বহির্লোক বাঙলাদেশের ভূগোল ও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হলেও অন্তর্লোক মানুষের চিরন্তন একাকিত্বের দিকে বিস্তৃত।
বাঙালি জীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতা বিস্ময়কর শক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের কবিতায়। তিনি একই সঙ্গে প্রেম, রাজনীতি, ইতিহাস, শরীর, যুদ্ধ ও ভাষার কবি। তাঁর কবিতার বহির্লোক প্রবলভাবে জীবন্ত; সেখানে যেমন আছে মুক্তিযুদ্ধ, নগর, ক্ষমতার নির্মমতা, তেমনি আছে মানুষের দৈনন্দিন আকাঙ্ক্ষাও। কিন্তু এই বহির্জগতের মধ্যেও তিনি মানুষের অন্তর্গত ভয়, কামনা, অপরাধবোধ ও একাকিত্বের অনুসন্ধান করেছেন। সৈয়দ হকের ভাষা নাটকীয় ও তীব্র ছন্দসম্পন্ন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজস্ব ব্যাকরণে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর কবিতা একই সঙ্গে আত্মস্বীকারোক্তি ও সময়ের দলিলে পরিণত হয়েছে।
যত দিন যাচ্ছে, বাঙলা কবিতায় বহির্লোক আরও জটিল হচ্ছে। পুঁজিবাদ, প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যুদ্ধ, উদ্বাস্তু সংকট, পরিবেশ বিপর্যয় ও পরিচয়ের রাজনীতি মানুষের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিচ্ছে। ফলে কবিতার ভাষাও পাল্টে যাচ্ছে। আগের মতো দীর্ঘ আবেগঘন উচ্চারণের বদলে এখন খণ্ডিত, সংক্ষিপ্ত ও ইমেজভিত্তিক ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুরুতেই লিখেছি, বাঙলা কবিতার অন্তর্লোক ও বহির্লোককে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। দুটো পরস্পরের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে একটি সমস্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা হলো বাহ্যিক চমক। আজ অনেক কবিতার বহির্লোক কেবলই নিরীক্ষার আতশবাজিতে ভরা, অথচ অন্তর্লোক ফাঁপা। শব্দের সাজসজ্জা আছে, কিন্তু মৌলিক উপলব্ধি অনুপস্থিত।
বাঙলা কবিতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ভারসাম্যের ওপর। মহৎ কবিতা সেই জায়গায় জন্ম নেয়, যেখানে অন্তর্লোক ও বহির্লোক একে অপরকে আলোকিত করে। জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’য় যেভাবে আমরা ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে একটি ভূখণ্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসও পাই। নজরুলের বিদ্রোহে যেমন রাজনৈতিক ক্রোধ আছে, তেমনি মুক্ত আত্মার উল্লাসও আছে। রবীন্দ্রনাথের প্রেম ব্যক্তিগত হলেও তার ভেতরে বিশ্বমানবতার চেতনা কী প্রবলভাবে উপস্থিত!
আসলে কবিতা মানুষের অস্তিত্বের দ্বৈত অভিজ্ঞতার শিল্পরূপ। মানুষ একই সঙ্গে সামাজিক প্রাণী ও নিঃসঙ্গ সত্তা। সে ইতিহাসের অংশ, আবার ব্যক্তিগত স্বপ্নেরও অধিকারী। বাঙলা কবিতা এই দ্বৈততাকেই বহন করছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। এই দুইয়ের সংঘর্ষ, সংলাপ ও সহাবস্থানই বাঙলা কবিতাকে এত বৈচিত্র্যময় ও গভীরতর করেছে। যতদিন মানুষ নিজের ভেতরের ধ্বংসস্তুপ আর পৃথিবীর যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে সম্পর্কের অনুসন্ধান করবে, ততদিন কবিতাই হবে তার প্রধানতম আশ্রয়।