ফুলবাড়ী: জমি, জীবন ও প্রকৃতির লড়াই

❑ সাম্য রাইয়ান

২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ির মানুষ যে সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল, তা শুধু একটি কয়লাখনি রক্ষার আন্দোলন ছিল না—এটি ছিল জীবন, জমি, নদী ও প্রকৃতি রক্ষার লড়াই। শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ফুলবাড়ি কয়লাখনি রক্ষা পেয়েছিল, কিন্তু সারা দেশে প্রকৃতির বিরুদ্ধে উন্নয়নের নামে নিপীড়ন আজও বন্ধ হয়নি৷ জলবায়ু সংকট, নদী দখল, পাহাড় কাটা, বনভূমি ধ্বংস—সবই আমাদের চোখের সামনে ঘটছে। 

ফুলবাড়ি আন্দোলনের মূল শিক্ষা ছিল, মানুষের অস্তিত্বের উপরে কোনো মুনাফা নয়। স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প টেকসই হতে পারে না। 

অথচ আজও আমাদের দেশে জ্বালানি সংকটের সমাধান খোঁজা হয় বিদেশি কোম্পানির শর্তে! ওদিকে বিকল্প নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা কেবল উপেক্ষিতই থেকে যায়। ফুলবাড়ি দিবস তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এটি বর্তমানের প্রশ্ন—এ রাষ্ট্র প্রকৃতপ্রস্তাবে কাদের জন্য উন্নয়ন চায়, এবং কোন মূল্যে?

ফুলবাড়ি শিক্ষা দেয় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অমর উক্তি, “সংগঠিত জনগণই ইতিহাসের নির্মাতা”। আজকের প্রজন্মের দায়িত্ব হলো সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের দাবি তোলা। ফুলবাড়ি দিবস তাই আজও সমান প্রাসঙ্গিক, সমান জ্বালাময়।

শ্রদ্ধা ফুলবাড়ির শহীদদের প্রতি, যাদের রক্তে লেখা আছে মানুষের অধিকার ও প্রকৃতির মুক্তির অঙ্গীকার।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *