❑ সাম্য রাইয়ান
তিনি চেয়েছিলেন, ‘বাঙালি’ চোখ তৈরি হোক; তাতে থাকুক কল্পনার দীপ্তি, ভাবের পরিমার্জন, আর প্রাচ্যনির্ভর সৌন্দর্যচেতনার পরিশীলিত ব্যঞ্জনা। এবং অবশ্যই এ দৃষ্টির নির্মাণ শুধু চিত্রকলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এক প্রকার নন্দনতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদ।
পশ্চিম নয়, প্রাচ্য নয়; নিজস্বতা।
বাঙালির নিজস্ব দৃষ্টির প্রতি আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করেছিলেন তিনি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷
আজ যখন বাঙলা চিত্রচর্চা, সাহিত্যের প্রচ্ছদ, এমনকি সিনেমাও এক ধরনের গ্লোবালাইজড রুচির অনুকরণে গড়ে উঠছে, তখন তিনি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন অনুকরণ নয়, অনুধ্যানে প্রাণিত করার জন্য।
শিল্প মানে কেবল রঙের ছোঁয়া নয়, শিল্প মানে এক দর্শনের রূপায়ণ। শিল্প শুধু চোখের আনন্দ নয়, আত্মারও এক ধ্যানপর্ব। এবং দেখাও এক ধরণের চিন্তা।
তাঁর আকরগ্রন্থ বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী আমার কাছে শিল্পচিন্তার কবিতা। যা বাঙালির চোখকে বদলে দিয়েছে—শুধু শিল্প কী, তা বোঝানোই নয়, বরং কীভাবে দেখতে হয়, কীভাবে না-দেখার ভেতরেও দেখা থাকে, সেই অনুশীলনের জন্য। বাগেশ্বরী বইটি আমাকে আমার ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটা অদ্ভুত অস্বস্তি জাগিয়ে দিয়েছিল।
যেন তিনি আমাকে বলছিলেন,
নিজের চোখ ফেরাও, নিজের মাটি চিনো, নিজের সৌন্দর্য খুঁজে নাও।
এক ধরনের চেতনার ডিকলোনাইজেশন।
তখন আমি বুঝেছিলাম, আমরা যেভাবে দেখতে শিখি, তার প্রতিটা ধাপে কী রূপে উপনিবেশ লেগে থাকে।
আমাদের চোখ আমাদের নয়।
আমাদের রুচি অপর নির্মিত।
যিনি আমাদের ‘দেখা’র ভিতরেও দর্শনের বীজ বুনে দিয়েছিলেন, সেই মানুষটির জন্মদিনে, আমি কৃতজ্ঞ।
কারণ অবনীন্দ্রনাথ না থাকলে, আমরা হয়তো বাঙলা ভাষায় চোখ মেলে দেখতেও শিখতাম না।
৭ আগস্ট ২০২৫