[কাগজে ছাপা সংখ্যাটি সম্পাদকের অনুমতিক্রমে সম্পূর্ণ এখানে প্রকাশ করা হলো৷]
সম্পাদকের কথা
চাকার উপর পৃথিবী চলে আর এ চলমান পৃথিবীতে নিয়ত কোথাও না কোথাও কোন না কোন ঘটনা ঘটেই চলেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সৃষ্টিশীল মানুষের শৈল্পিক সৃষ্টি। এমনই ঘটনার জন্ম দেয় সময়ের অনুঘটক হয়ে কেউ না কেউ। তেমনি একটি ঘটনা দেশ-বিদেশে দামামা বাজিয়ে দেয়, শিল্প যোদ্ধা কবি ও সম্পাদক সাম্য রাইয়ানের সাহিত্যকীর্তি। আর তাকে ঘিরে যে, আয়োজন চলছে সেকেলে কেউ কেউ ঘটনাটিকে দূর্ঘটনা ভাবছে, আদতে তাদের ঘটনা ও দূর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তর পাঠ আবশ্যক। একই সাথে কয়েকটি ঘটনায় মোলাকাৎ করাতে চাই।এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আসলে কুড়িগ্রামে সাহিত্যিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পিছিয়ে পড়া দরিদ্র একটি জেলা। কিন্তু সাহিত্য-সংস্কৃতির দিক থেকে কুড়িগ্রাম রত্নগর্ভা। কুড়িগ্রাম জন্ম দিয়েছে দেশবরেণ্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী জাকির হাসান (নাট্যকার), দেশবরেণ্য নাট্যকার গোলাম সরোয়ার, একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন এস এম আব্রাহাম লিংকন, কবি জ্যোতি আহমদ, কবি মিজান খন্দকার, দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী রেজাউল হক লিটন, এরকম আরো অনেক অনেক গুণীজনের। তবু আমাদের মানসিক দীনতা কেটেছে কি?
সৈয়দ শামসুল হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। বয়সের এ তথ্যটি আমাদের স্মরণে রাখা দরকার। যার যা সম্মান, তাকে তা দিতেই হবে। বয়স দিয়ে কেউকে খাটো করে দেখার সুযোগ ইতিহাস আমাদের দেয় না।আমরা দেখতে পাই, সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবদান রাখা মানুষ কুড়িগ্রামে নানাভাবে সম্মানীত হন, কিন্তু সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের মূল্য আমাদের কাছে একদমই নাই। আমরা জানি, যে দেশে গুণীর কদর নাই, সে দেশে গুণী জন্মায় না। তবুও কুড়িগ্রামের লেখক-সাহিত্যক দেশে-বিদেশে সম্মানীত হচ্ছেন। এ সম্মান তাঁদের একক নয়; এ সম্মান, এ গৌরব কুড়িগ্রামবাসীর; তথা আমাদের সবার।কুড়িগ্রামে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা সংস্কৃতি এমনই যে, “সাহিত্যিকগণ কলুর বলদ, তাদের কাজ শুধুই ঘানি টেনে যাওয়া৷ তারা সম্মানীত হবেন কেন? সাহিত্য আবার কোনো কাজ হলো না কি? তাদের প্রাপ্তি শুধুই অবহেলা, অসম্মান।”
তাদের সম্মান জানানোর সংস্কৃতি আমরা কুড়িগ্রামে তৈরি করতে চাই। একজন সাম্য রাইয়ান যখন তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য দেশে-বিদেশে সম্মানীত হন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘মনমানচিত্র’, ভারতের ‘তারারা’, ‘এবং পত্রিকা’ যখন তাকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যপত্র ‘নিসর্গ’ যখন বিশেষ মূল্যায়ন প্রকাশ করে, তখন গর্বে আমাদের বুক ফুলে ওঠে। সকল হীনম্মন্যতার উর্ধ্বে উঠে এই আনন্দ আমরা সগৌরবে উদযাপন করতে চাই। কারন এই সমাজের বিকাশে আমাদের আরো আরো সাম্য রাইয়ান প্রয়োজন। এজন্যই কুড়িগ্রামে আমরা নবীন-প্রবীণ সাহিত্যপ্রেমী একত্রিত হয়েছি। আমরা আমাদের ভালোবাসা দিয়ে সাম্য রাইয়ানকে সংবর্ধিত করছি। পরিশেষে বলব, যারা সাম্য রাইয়ানের সাহিত্যকীর্তির সাথে পরিচিত না, তারা একটু কষ্ট করে তাঁর লেখা বই পড়ুন, তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে যেসকল আলোচনা, গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো পড়ুন। দরকার হলে গুগলে সার্চ করে জেনে নিন গত ১৭ বছর থেকে কী বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম করে চলেছেন তিনি।
সবাইকে জানাই ভালোবাসা। সাহিত্যের জয় হোক।
–মোকলেছুর রহমান
সম্পাদক, শ্বেতপত্র
একজন সাম্য রাইয়ান ও প্রত্যাশা
এস এম আব্রাহাম লিংকন
(একুশে পদক প্রাপ্ত গুণীজন, পাবলিক প্রসিকিউটর, কুড়িগ্রাম জেলা)
পিছিয়ে থাকা কুড়িগ্রামের এগিয়ে থাকা তরুণ সাম্য রাইয়ান। কবিতাই তার প্রধান কাজ। কবিতার প্রশ্নে বেশ একরোখা। কবিরা সাধারণত সমাজ ও পরিবারে খুব একটা সমাদৃত নন। প্রতিষ্ঠিতরা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলেও তরুণরা বেশ নিগৃহীত। এদের জায়গা না দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতায়, না কোনো প্রকাশকের আস্থায়। এদের বই প্রকাশে প্রকাশকরা ঝুঁকিবোধ করেন। ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা যেতে চান না। নিশ্চিত লাভের পিছনে দৌড় দিতে পারঙ্গম। তরুণদের নিজেদের বই নিজেদেরই ছাপতে হয়। ছাপার পর পাঠকরা ফ্রিতে পেতে চায়। বিক্রি করতে গেলে ভীষণ হতাশায় আক্রান্ত হন তরুণ লিখিয়েরা।
সাম্য রাইয়ানের জীবনেও হয়তো এমনটি ছিলো একসময়। সেসব বাধা সে লেখার গুণগত মান দিয়ে সহজেই অতিক্রম করতে পেরেছে। এই অল্প বয়সেই তার লেখা অনেকেরই মনযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। প্রকাশকরাও তার বই প্রকাশে বিনিয়োগ করতে ভয়ে থাকেন না। সে শঙ্কা উৎরে গেছে বেশ আগেই। শুধু তাই নয় তার লেখা দেশ ও দেশের বাইরেও পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। এটি তার তারুণ্যের জয়। সাম্যের চলা ও বলায় কবির প্রকটভাব প্রস্ফূটিত। ও এক সময় ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো, কিন্তু আমার কাছে ওকে একজন কবিতাকর্মীর বাইরে কিছু মনে হয়নি। ও প্রমাণ করেছে, যদি কেউ লেগে থাকে তাহলে বয়স সমস্যা নয়; অল্প বয়সেও সাফল্য পেতে পারে। সাম্য রাইয়ান কবি হিসেবে তার সময়ের তরুণদের চেয়ে এগিয়ে। তার একটা কবি পরিচিতি গড়ে উঠেছে। সেটি আমি অনুভব করলাম প্রথমবার নিউইয়র্কে গিয়ে। সেখানে কবি ও সাংবাদিক সদ্য প্রয়াত মাইনুদ্দিন সাহেবের সাথে জ্যাকসনহাইটে। তিনি আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেনে বললেন, আমি সাম্য রাইয়ানকে চিনি কিনা? ভালো লেগেছে আমাদের একজন তরুণ কবির লেখার সাথে তিনি পরিচিত। ভালো লাগছে পশ্চিমবঙ্গ সহ বহির্বিশ্বে তার লেখা নিয়ে মূল্যায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ হচ্ছে। এগুলো কবি ও কবিতার মূল্যায়নের সাক্ষ্য। সাম্য আরও লিখুক, আরও এগিয়ে যাক। আশা করি ওকে অহমিকা কোনদিন গ্রাস করবে না। একজন নিরঅহংকারী ও নির্মল মানুষ হোক। এটাই আশা।
সাম্য রাইয়ানকে বলছি…
আশুতোষ বিশ্বাস
(সম্পাদক, ‘তারারা’, সাহিত্যের আলোকপত্র, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
সকালের সূর্য দেখে সারাদিনের জন্য দিনলিপি রচনাকারী ক্ষুদপিপাসু মানুষ কালকের সকাল দেখতে না পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে ঘুমোতে যায়, কেউ কেউ ঘুম থেকে জেগে ওঠে, কেউ ঘুমিয়েই থাকে। তরুণ কবি সাম্য রাইয়ান তার কবিতার শব্দে শব্দে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর ফিরিস্তি দিয়ে শুরু করেছেন, সময়ের ঘেরাটোপে সময়কে বেঁধে ফেলে সময়াত্তীর্ণ অনিঃশেষ সময়ের গীত রচনা করেছেন—যা ভবিষ্যের কাছেও অনভ্যস্তের ফোঁটা হয়ে খচ খচ সম্বিত দিয়ে যাবে। একজন কবিই পারেন—কন্টকাকীর্ণ পথে পা রেখে নিষ্কণ্টক পথের সন্ধান দিতে। সাম্য রাইয়ান সেই কবি যে কবির হাতে গোটা পৃথিবীর দায়বদ্ধ ব্যাটন, শাসনের, অঙ্গীকারের ব্যাটন, মানব শৃঙ্খলিত স্বস্তির স্বপ্নসাধক, স্বপ্ন সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাঙা মাস্তুল আপ্রাণ টেনে রাখা মাঝি তার নৌকার যাত্রীদের স্বপ্নসৌধ নির্মাণ কর্মের অনলস সুহৃদ।
সাম্য রাইয়ান বিদ্রোহী, সাম্য রাইয়ান প্রেমিক, সাম্য রাইয়ান একগুয়ে চরম জেদি—সাম্য রাইয়ান এক ক্ষুধার্ত শব্দশ্রমিক। শব্দের বিয়ে দেন শব্দের সাথে, শব্দ বর, শব্দ কন্যা, বর কনেকে ইচ্ছেমত পড়ান কবুলনামা। সোনার দিরহাম তার হাতে নেই—কিন্তু আছে অবিনশ্বর প্রেম, অনন্তের জন্য বেঁচে থাকা মানবের শুচিশুভ্র দিঙ-নির্ণায়ক প্রত্যয়।
সাম্য রাইয়ান আসলে কবি। তিনি এমন কবি— যার হাত পা মন প্রাণ আমাদের পুতিগন্ধময় কামগন্ধময় ষড়রিপু বরষণ সকাল সন্ধের কালপেঁচা পাতিকাক কর্কশ ডাকের বিহানবেলায় পাকা বিল্বফলে চঞ্চু ঘষে।একজন আস্বাদ বিফলে আঙুর টক বলে ব্যর্থ মনোরথে গৃহস্থের হাঁস মোরগের দিকে তীব্র সটান দৃষ্টি রাখে, আর একজন বিল্বফলের নির্যাস শুষে নিয়ে আস্ত ফল আস্ত রেখে দেয়।
একজন কবি একটি দেশে থাকলে সেই দেশের আর ভাবনা কী! উপপ্লবের দারুণ অগ্নিমান্দ্য দিনেও চাঁদের হাসি দিয়ে মৃত্যঞ্জয়ী হতে পারেন, বিজয়ীর বরমাল্য গলায় পরাতে পারেন। সাম্য রাইয়ান সেই মৃত্যুঞ্জয়ী কবি। তাঁর কলম নিঃসৃত শব্দব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে আছে ব্যারিকেডহীন মানব বিশ্ব। তাঁর কলমে চঞ্চলতা পাক অচঞ্চল বোধি, আর চঞ্চল বোধি পাক শান্ত সমাহিত পবিত্র সৌরভ তন্ময়তা।
সাম্য রাইয়ানের কবিতা হোক— আপামর মনের সুখ জাগানিয়া, বেদনহরা মনের দুহিতা, প্রণয়লতিকা আর কঠোর তীব্র দহনিকা।
তারারা পত্রিকার পক্ষ থেকে কবি সাম্য রাইয়ানের নাগরিক সংবর্ধনায় শুভেচ্ছাবার্তা
স্বাগতা বিশ্বাস
(সহ সম্পাদক, ‘তারারা’ সাহিত্যের আলোকপত্র, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
‘তারারা’ সাহিত্যের আলোকপত্র পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল কবি ও সম্পাদক বন্ধুদের জানাই হার্দিক শুভেচ্ছা। চন্দ্রযান থ্রি চাঁদে পৌঁছে চাঁদের তথ্য আমাদের পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে আর সেই সংবাদ নিয়ে দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিক তেমনি ‘তারারা’ পত্রিকাও সমকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা তরুণ কবি ও সাহিত্যিকদের খুঁজে বার করে নতুন চোখের আলোয় নিয়ে আসার প্রয়াস করে যাচ্ছে। আয়োজন কম কিন্তু বড় করে স্বপ্ন দেখার এই অভিযানে ‘তারারা’ সদা জাগ্রত। ‘তারারা’র তেমনিই এক অনুসন্ধান ফসল— কবি সাম্য রাইয়ান। সাম্য রাইয়ান একধারে কবি, প্রাবন্ধিক, সমালোচক, মুক্তগদ্য লেখক, লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক এবং এই সময়ের মুখে মুখে ফেরতা সম্পাদক-নাম।
ব্যক্তিগতভাবে ‘বিন্দু’ ওয়েব ম্যাগাজিন তথা মুদ্রিত পত্রিকার সম্পাদক-কবি সাম্য রাইয়ানের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় তাঁর বিন্দু পত্রিকার মাধ্যমে। পত্রিকায় কয়েকটি লেখা পাঠানোর পর আর দশজন লেখা-প্রেরকদের মতোই সন্দিগ্ধ ছিলাম—লেখা মনোনয়নের ব্যাপারে। আদৌ লেখা মনোনয়নযোগ্য হয়ে উঠবে কী না? পূর্ব পরিচয়হীন একটা পত্রিকায় সম্পূর্ণ অপরিচিত লেখকের লেখাকে বিন্দু স্থান দিতে পারে বা পেরেছে—এই অবকাশে বিন্দু তার শিরদাঁড়া সোজা বুঝিয়ে দিয়েছে। একজন লেখকের লেখাকে লেখার ঔজস্বী গুণে স্থান দেওয়া হয়—তা ‘বিন্দু’য় প্রমাণিত। কিন্তু যখন সেই পত্রিকায় প্রেরিত লেখা প্রকাশিত হল তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে এটা ঠিক বিক্রম ল্যান্ডারের মতোই বিন্দুর প্রজ্ঞান তথ্য আদান-প্রদান সুস্থভাবেই চলছে। এপার ওপার বাংলা মাঝে কাঁটাতারের ব্যারিকেড ডিঙিয়ে মননের উন্মুক্ত খৈলানে যে ব্যারিকেড নেই, তা সাম্য রাইয়ান আর তার পত্রিকা বুঝিয়ে দিয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, ভারত বাংলাদেশে আমার মত স্বল্প লিখিয়ের ‘বিন্দু’ই প্রথম মাধ্যম, প্রথম ক্ষেত্র। এইদিক দিয়ে আমি রাতারাতি আন্তর্জাতিক চাঁদ ছুঁয়ে ফেলেছি। আমার কাছে যুগপৎ আনন্দের তেমনি গর্বের।
কবি ও সম্পাদক সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে যখন একটি সংখ্যা করবো (‘তারারা’ পত্রিকার তরফ থেকে) বলে মনে করা হয়েছে, বড় আশ্চর্য লেগেছে সাম্য রাইয়ানের কথা শুনে। যদিও পত্রিকা প্রকাশের আগে এমনকি এখনও পর্যন্ত তাঁকে চোখে দেখিনি, শুধু ম্যাসেঞ্জারে অল্প-স্বল্প ম্যাসেজ মারফত কথা হয়েছে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে উনার সঙ্গে অক্ষরালাপ হয়েছে, অক্ষরে অক্ষরে কথা হয়েছে। সাক্ষাৎ দূরের অস্ত—চাক্ষুষ কোনদিন হবে কী না, সেটাও জানা নেই, কিন্তু কখনও ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ মনে হয় নি। তখনও পর্যন্ত সাম্য রাইয়ান এতটুকুও টের পাননি যে উনাকে নিয়ে একটি আস্ত বিশেষ সংখ্যা হতে চলেছে। যখন বিষয়টি জানানো হল—কিছুতেই মত দিতে রাজি হননি। তিনি অন্য কাউকে নিয়ে সংখ্যা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ‘তারারা’ পত্রিকা পরিবার নাছোড়। সম্মতি আদায় করে তারপর ‘তারারা’ বিনিদ্র রজনী যাপন করেছে। প্রায় দু’বছরের একটানা প্রয়াস। আমন্ত্রিত প্রাবন্ধিকদেরও ভেতরে ভেতরে সন্দেহ ছিল। এরকম একজন নবীন কবিকে নিয়ে ‘তারারা’ ভুল একটা স্বপ্নের পেছনে ছুটতে চলেছে। আর সাম্য রাইয়ান বার বার ম্যাসেঞ্জারে রিপ্লাই দিচ্ছেন—‘এ কী কাণ্ড ! আমাকে নিয়ে সংখ্যা, আমি তো ভাবতেই পারছি না, এটা হয় না। অন্য কোন বড় কবি বা সাহিত্যিককে নিয়ে করুন, আমি সব রকম ভাবে সাহায্য করব’। আর ‘তারারা’ পরিবারের একটাই কথা— ‘আপনি সম্মতি দিন, শুধু সম্মতি দিন। যা হয় হবে। লেখা না পেলে সংখ্যা হবে না। একবারের জন্য অন্তত চেষ্টা করার সুযোগ দিন।’ খুব আনন্দের সঙ্গে বলছি— প্রায় ছয়- সাত মাস পর সম্মতি দিয়েছিলেন। ‘তারারা’ পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসেবে সাম্য রাইয়ান সংখ্যা প্রকাশ করে কী যে স্বর্গীয় সুখানুভব পেয়েছি তা বলে বোঝাতে পারব না। কবি সাম্য রাইয়ানের কবিতার নানাবিধ বাঁকদ্যুতি, যেভাবে বহুকৌণিক কাব্যের আলোচনা উঠে এসেছে—তা আসলে হয়ে উঠেছে একটা (থিসিস) অভিসন্দর্ভ। এইসব দেখে আগামীতে সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে একটা গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করার ভাবনা কিন্তু মনের মধ্যে জেগে গেছে। প্রকাশকের কাছে থেকে সেরকম প্রস্তাব ‘তারারা’র দপ্তরে এসে গেছে। প্রায় ৩৫ জন কবি, প্রাবন্ধিক, সমালোচক সাম্য রাইয়ানের কবিতার যে বিশ্লেষণ করেছেন তা কালের কপোলতলে সোনামুখী সুঁইয়ে গাথা হয়ে রইল। কবির প্রতিটি কবিতার লাইনকে বিশ্লেষণ করে প্রাবন্ধিকগণ যে সমস্ত প্রবন্ধ লিখেছেন তা অবশ্যই এই সময়ের এই সংখ্যার পাঠকের কাছে আনকোরা পরম প্রাপ্তি। সাম্য রাইয়ানের কবিতা পড়ার পর বার বার মনে হচ্ছিল— এরকম একজন তরুণ শক্তিমান কবিকে কবিতাপাঠক কী চিনতে পারছেন না? না কী পড়ছেন না, শুধু চোখ বোলাচ্ছেন, পড়ার ভান করছেন? না কী, পেছনে অন্য কিছু— অন্য কোন কথা, যা সর্বসমক্ষে বলা যাবে না’! তবে এটা ঠিক যতই দরজা বন্ধ করা হোক, আলোকের অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে না। চাঁদ সদাগরও পারেন নি, তার সন্তানের লোহার বাসরঘর নিশ্ছিদ্র রাখতে। পরবর্তীতেও এইভাবে আরো অনেক তরুণ কবি ও সাহিত্যিকদের নিয়ে ‘তারারা’ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। মৃত্যুপথযাত্রীর মাথার সামনে জীবনদায়ী ওষুধের বোতল সাজিয়ে রেখে লাভ কী, যদি সে ওষুধ সঠিক সময়ে তার মুখেই না পৌঁছাল! নিভৃত কবি সাধকদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কথা শুধু মুখে নয়— কাজেও অন্যান্য পত্রিকা গোষ্ঠী এগিয়ে আসার স্পর্ধা দেখাবে বিশ্বাস করি। সাম্য রাইয়ানকে অনিঃশেষ শুভেচ্ছা— শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়ে ‘তারারা’ পত্রিকা পরিবারকে সাম্য রাইয়ান একটা সুযোগ দিলেন বলতে পারি!
সাম্য রাইয়ানের সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করি।
তারারা পত্রিকা পরিবারের পক্ষে প্রগাঢ় শুভেচ্ছা৷
সাম্য রাইয়ান প্রসঙ্গে
সুশান্ত বর্মণ
(অনুবাদক ও সম্পাদক ‘তীব্র কুড়িগ্রাম’, পরিচালক www.granthagata.com, সহকারী অধ্যাপক-বাংলা বিভাগ, কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ)
একবিংশ শতাব্দীর নান্দনিক বোধ বাংলা ভাষার যে সব তরুণ কবিদের চেতনায় মূর্ত হয়ে উঠেছে, তাদের মধ্যে সাম্য রাইয়ান অন্যতম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তৈরি করে এক নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্র 'বাংলাদেশ'। যুদ্ধের অভিঘাত সাহিত্য চেতনায় নিয়ে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। শিল্পে এর প্রতিফলন যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, রাজনৈতিক উত্থানপতন তার অনেকাংশকে স্তম্ভিত করেছে। নব্বই এর পর শুরু হয় গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা। সারস্বত সমাজের আত্মপরিচয় নতুন করে নির্মিত হতে থাকে। ফলে আটের দশকের সাহিত্যবোধ নয়ের দশকে পায় নতুন মাত্রা। একুশ শতকে পা রেখে বাংলা সাহিত্য নবউদ্যোমে যাত্রা শুরু করে। বিদগ্ধ লেখকগণ বাস্তবতার আলোকে নিজেদের দার্শনিক চেতনাকে শাণিত করতে থাকেন। দ্বিতীয় দশকে বাংলা সাহিত্য পায় আত্মবিকাশের অবাধ সুযোগ। অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের মিশেলে বাংলাদেশের সাহিত্য এক নতুন বাঁক নিতে শুরু করে। যার ইঙ্গিত খুব কম সংখ্যক লেখক ধরতে পেরেছেন। এদের মধ্যে সাম্য রাইয়ান তরুণতম।
বাংলা কবিতার সর্পিল গতিপথ জানতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অন্যদের চিনতে হবে। কিন্তু তাদের পদক্ষেপ অনুসরণ করলে নিজের স্বকীয়তা তৈরি হবে না। আবার পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি করে নতুন নান্দনিকবোধ। প্রত্যেক যুগেই এমন কিছু লেখক পাওয়া যায়, যারা সময়ের চাইতে এগিয়ে থাকেন। সচেতন লেখকগণের ভাবনা মূর্ত হয়ে ওঠে ষাটের দশকে। তাঁরা হাংরি আন্দোলন, শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলন, নিম সাহিত্য আন্দোলন প্রভৃতি নামে প্রস্তাব করেন নতুন যুগের সাহিত্য দর্শন। আধুনিকতার প্রতি অগ্রযাত্রায় এই নতুন সাহিত্যবোধ নাড়া দিয়েছিল সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ এবং প্রথাগত সাহিত্যধারণাকে। যারা পরিবর্তনের বার্তা বুঝতে পেরেছেন, তারা এগিয়ে গিয়েছেন ভবিষ্যতের পানে।
একুশ শতকে এসে সাহিত্য আন্দোলনগুলো বহুবিধ মাত্রায় বিকশিত হয়েছে। সাম্য রাইয়ান এই সময়ের আধুনিক চিন্তাচালিত মৌলিক রসবোধের কবি। বহুচর্চিত, পরিচিত, নিরাপদ পথের কাব্যচারিতাকে তিনি একঘেয়ে ক্লিশে মনে করেন। পুরনো আখ্যান, ছন্দ, বিন্যাস, উপমা, অলংকারের পুনরুৎপাদন তাকে ক্লান্ত করে তোলে। তাই পরিচিত উপাদান, দৃশ্য তার চোখে পায় নতুন মনোযোগ; পরিচিত অলংকার তার হাতে পায় নতুন শৈলী, প্রচলিত শব্দ জেগে ওঠে নতুন ভঙ্গিতে।
সাম্য রাইয়ানের বয়স এখনও তিরিশ পেরোয়নি। কিন্তু শব্দ চয়নে, বাক্যবিন্যাসে, দৃষ্টিকোণে, চিন্তা উপস্থাপনায় তিনি যে মৌলিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তার শক্তি অপরিমেয়। তার কিছু কিছু বাক্যাংশ ইতোমধ্যে মানুষের মননের গভীরতর স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
‘জীবনপুরাণ’ কবিতায় তিনি যখন বলেন-
“বানান ভুল হলে কাছের মানুষও কাচের হয়ে যায়’’, তখন পাঠক চমকে ওঠে। নির্মম একটি উপলব্ধি এত সহজে পরিচিত শব্দ সহযোগে আলগোছে উপস্থাপন করেন যে, পাঠক আনমনা হয়ে যায়।
সাধারণ চোখে প্রতিটি বিদায় মৃত্যুর নামান্তর। কিন্তু ফিরে আসার শুভকামনা তো মিশে থাকে প্রতিটি বিদায়ে। সাধারণের চিন্তাগত সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে তাই সাম্য রাইয়ান জানতে চান এভাবে- ‘‘ব্যাগভর্তি গুডবাই নিয়ে চললে কোথায়?’’
যেভাবে বললে বিদায়বেলা শোক নয়, আশাবাদের রঙে বর্ণিল হয়, ঠিক সেভাবেই তিনি বললেন। এ যেন সুবিমল মিশ্র'র মনোভঙ্গি। তিনি লিখেছিলেন – “বলার ভঙ্গিটাই যখন বিষয় হয়ে ওঠে"। সাম্য রাইয়ানের বলার ভঙ্গিটাও অনুপম। পাঠককে সহজে বিমোহিত করে ফেলে। আবেগে, আঙ্গিকে, চিন্তাপ্রসঙ্গে এমনকি চিন্তাপদ্ধতিতেও তিনি আধুনিক এবং নান্দনিক।
তবে অন্যদের মত উচ্চকিত স্বরে নয়, নিজেকে প্রকাশের উদগ্র বাসনায় নয়; আধুনিক প্রকরণের স্নিগ্ধ ব্যবহারে তিনি নমিত স্বরে উপস্থিত হন পাঠকের হৃদয়দ্বারে। মৃদু ছোঁয়ায় অবারিত হয়ে পরে কবিতামহল। যথাযথ শব্দের নিক্বণে মুখরিত হয় ছন্দ সরোবর। এজন্যই সাম্য সফল, এখানেই তার সার্থকতা।
প্রচলিক ছাঁচের বাইরে পৃথিবীটা দেখাতে পারেন সাম্য রাইয়ান
ধীমান ব্রহ্মচারী
(কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও প্রকাশক ‘এবং অধ্যায়’, কলকাতা)
...আমাদের নিস্তব্ধতায় বয়ে নিয়ে যায় প্রবাহমানের কিনারায়, যেখানে আলতো হাতে সাহিত্যের পা ধুয়ে দেন জনৈক সেবক। যিনি সমস্ত শক্তির বাইরে গিয়ে নতুন পৃথিবী গড়ে দেন আমাদের অভিন্ন চেতনায়। আমরা কালো নয়, লাল নয় বরং হলুদ পাহাড়ের কোলে উঠি এক বাগান মালীর তত্ত্বাবধানে। প্রেম-নৈঃশব্দ-আনন্দ এবং বাস্তবের অক্লান্ত সাহিত্য সেবক সাম্য রাইয়ান। বিরাট বাংলা সাহিত্য সাগরের বুকে তিনি তাঁর ছোট্ট পানসি নাম ‘হলুদ পাহাড়’ নিয়ে এগোচ্ছেন। ইতমধ্যেই তাঁর রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বরং ওপার বাংলা ছাড়িয়ে এপার বাংলায় সেই সাহিত্যস্রোত এসে মিশেছে। তাঁর অমূল্য গ্রন্থ ‘হালকা রোদের দুপুর’, ‘লিখিত রাত্রি’, ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’, ‘চোখের ভেতরে হামিংবার্ড’, ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’, ‘মার্কস যদি জানতেন’, ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’ এবং ‘হলুদ পাহাড়’ প্রভৃতি আমাদের সাহিত্যে অবদান রেখেছে, হয়েছে পাঠক সমাদৃত। কবিতাকে নিয়ে ওঁর যে অপূর্ব শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গী তা সত্যিই অনস্বীকার্য। তথাকথিত ছকের বাইরে গিয়ে দেখার ও দেখানোর চেষ্টা করেছেন বারবার। আমরা যখন তাঁর লেখাগুলোকে দেখি বা পড়ি এবং পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি, তখনই মনেহয় সাম্য যেন একটা তুলি নিয়েছে আর বিরাট একটা সাদা ক্যানভাসে আমাদের তুলির টানে একটা একটা করে আমাদের চেনা পরিচিত আনন্দ ও জীবনের ছবি দেখাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র তুলি নয়,অন্যহাতে একটা জাদু কাঠি রেখেছেন। আমাদের খুব কাছের পরিচিত ভাবনা বা অদৃশ্য অথবা নাদেখা কিংবা আবছা স্মৃতিগুলো একবার আলো ফেলে দেখাচ্ছেন।
নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের এই বিশেষ দিনে সাম্য রাইয়ানকে জানাই অভিবাদন। আগামীদিনের নিরন্তর ও অক্লান্ত সাহিত্যচর্চা এগিয়ে চলুক। সুস্থ থাকুন, সৃজনে থাকুন।
কুড়িগ্রামের সাম্য রাইয়ান: এপার-ওপার বাংলার সাহিত্যপাড়ায় এক জ্বলজ্বলে নক্ষত্র
আহম্মেদুল কবির
(কবি, গল্পকার ও সম্পাদক ‘মহাকাল’)
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের টাউন হল মঞ্চে কবি সাম্য রাইয়ানকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। সাম্য রাইয়ানকে যারা চেনেন, জানেন এমন কিছু সাহিত্যপ্রেমী ব্যক্তি ও সাহিত্য সংগঠনের পক্ষ থেকে থেকেই মূলতঃ এই সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে।
সাম্য রাইয়ানকে কেন সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে অনেকেই জানার আগ্রহে প্রশ্ন করতে পারেন। তাদের প্রশ্নের জবাবে বলবো ‘মূলত বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যই তাকে সংবর্ধিত করা হচ্ছে।’
সাম্য রাইয়ান নব্বই দশকে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের হোসেন খাঁ পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। এরই মধ্যে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা, লিটলম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি করে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে ‘বিন্দু’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশ করতে শুরু করেন। এছাড়া তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ: বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা, মার্কস যদি জানতেন, হলুদ পাহাড়, চোখের ভেতর হার্মিংবার্ড, লিখিত রাত্রি, হালকা রোদের দুপুর। সম্পাদিত গ্রন্থ: উৎপলকুমার বসু, জন্মশতবর্ষে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। গদ্যগ্রন্থ: সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট, লোকাল ট্রেনের জার্নাল। এপার ওপার দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমী ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞদের মনে নজর কেড়েছে বলে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বলা চলে ভারতের সাহিত্যপাড়ায় হইচই পড়ে গেছে।
সাম্যের প্রতিটি লেখা নিয়ে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, সাহিত্য বিশারদ, জ্ঞানী-গুণী, ডক্টরেট, বিশেষ ব্যক্তিত্ব, কবি- সাহিত্যিক, পত্র-পত্রিকার সম্পাদকগণ চুলচেঁরা বিশ্লেষণ করছেন, তাঁর সাহিত্যকে নতুন করে দেখছেন, নতুনত্বের উপলব্ধি করছেন। এরই মধ্যে ভারতের সুভাষিণী পল্লি, মানবাজার, পুরুলিয়া থেকে প্রকাশিত ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘তারারা’ সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। উল্লেখিত প্রখ্যাত জ্ঞানী-গুণীর লেখায় প্রকাশিত ‘তারার’র বিশেষ সংখ্যাটি এতই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে যে, বাংলাদেশে আসার আগেই মাত্র দুই মাসে প্রথম সংস্করণের কপি শেষ হয়ে সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করতে হয়েছে। পত্রিকাটির একটি কপি আমি হাতে পেয়েছি। সত্যি কথা বলতে, সংখ্যাটি পড়ে আমি ভীষণ অবাক হলাম এবং আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, আমাদের কুড়িগ্রামের সন্তান এত ভাল লিখে অথচ তাকে আমি চিনি না, জানি না।
তাকে চেনে অন্য দেশের মানুষ, নিজের কাছে নিজে লজ্জিত হয়ে, সাম্য রাইয়ানকে কিছুটা হলেও চিনতে চাইলাম, জানতে চাইলাম, আরো বেশি চেনা-জানার অধীর আগ্রহ নিয়ে সংগ্রহ করলাম ‘তারারা’। পড়ে নিলাম দুই রাত্রিতে। পড়ার পর সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে কোন কিছু লেখার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হলো না। সাম্য রাইয়ানের সামগ্রিক লেখা নিয়ে যা লেখার প্রয়োজন ছিলো ‘তারারা’য় লেখকগন আমাদের সাম্য রাইয়ানকে সেভাবেই চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। সে বিষয়টি তুলে ধরার জন্যই আমার এই ক্ষুদ্র প্রায়াস।
আমাদের সাম্য রাইয়ানের কবিতা প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে ড. প্রবাল চক্রবর্তী তাঁর লিখিত প্রবন্ধে সাফ স্বীকার করে লিখেছেন- খুব আন্তর্জাতিক সুর আছে সাম্যের কবিতায়, তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত স্বর এতটাই আন্তরিক-মৌলিক যে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনেক নামজাদা কবিকে লজ্জা দিতে পারে।
ড. অমিতাভ কর লিখেছেন- কবিতায় সাম্যের নতুন উপমা-রূপকের ব্যবহার আশ্চর্য করে। পাখি, মিথ, সব একাকার হয়ে নতুন রূপে অলংকৃত করে। তার কবিতা উচ্চাকিত নয় বরং তা গোপন সরাংগে চুইয়ে পড়ে আমাদের আদ্র করে।
ড. সুশান্ত চৌধুরী সাম্যের প্রকাশিত বইয়ের উৎসর্গপত্রে কবির মন ও মানষিকতা খুঁজতে গিয়ে এক কথায় লিখেছেন- যেন এক হৃদয়গ্রাহী।
ড. মধুমঙ্গল ভট্টাচার্য তাঁর লিখিত প্রবন্ধের শিরোনামে লিখেছেন- ‘ব্যক্তিগত থেকে সামগ্রিক অন্তর্দহনে পরিণত হয় কবির কবিতা।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো লিখেছেন- ‘সাম্য সেই অগ্নি পরীক্ষায় কর্ণের মতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্যের কবিতার বিষয় ও আঙ্গিক বৈচিত্র এবং কাব্যকুশলতা সত্যি বিস্ময় জাগানিয়া। তিনি সাম্যের কাব্য গ্রন্থ- লিখিত রাত্রি পড়ে প্রবন্ধের শেষাংশে এও স্বীকার করে লিখেছেন- ‘আমি প্রথমবার বইটি পড়ে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, দ্বিতীয় শতকে এত শক্তিশালী কবির আবির্ভাব ঘটেছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘চেতনার ক্যানভাসে কবির আকাঁ অন্তর্দহনের চিএ আমাদের বিমোহিত করুক আগামীতেও।’
ভারতের বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘তারারা’র সম্পাদক আসুতোষ বিশ্বাস সাম্য রাইয়ানের কবিতা সম্পর্কে শিরোনামেই লিখেছেন- সাম্য রাইয়ানের কবিতা: শান্ত সমাহিত কবরের ঘাসে-ঘাসে মুকুলিত বুনোফুল-প্রশান্তি, তিনি এও লিখেছেন, এই কবির কবি জন্মের ইতিহাস খুব বেশি অতীত গভীরে শিকড় চালেনি, কিন্তু মহীরুহের আভাস-সুবাতাস বয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রজ্ঞাদীপ্তি যৌবনলভিত সাম্যের কবিতায় বর্ণপ্রতাড়িত পাতায় পাতায়। তিনি এও লিখেছেন- নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সমাজ রাষ্ট্রের অংশীভূত হয়েও সাম্য রাইয়ান নির্দিষ্ট ভূগোলকের চারপাশে বন বন ঘুরতে থাকেন না, তার কাছে মানব বিশ্বের সমস্ত মানুষ্য- পদবাচ্যই তার আত্নার আত্নীয়, ভাই ভগিনী। সাম্য তার নামের সঙ্গে অদ্ভূতভাবে কাব্যিক সমতা ধরে রেখে চলেছেন। এক নজরে কবি হিসেবে সাম্য রাইয়ান যতটা স্বদেশে প্রজাপতি, বিজ্ঞাপিত তার চেয়ে বেশি সন্মানিত প্রতিবেশী দেশ ভারতবর্ষেও।
ড. অনিন্দ্য রায় লিখেছেন- যিনি মৃত্যুকে অনায়াসে আত্মস্থ করতে চান স্বাভাবিক ভঙ্গিমায়, কবিতার বুকে বসত গড়ে তুলে আনতে পারেন সময়ের নানান অসঙ্গতি, তিনি কবি সাম্য রাইয়ান।
তিনি এও লিখেছেন- কবি সাম্য রাইয়ান শব্দের সমুদ্রে ডুবে সেঁচে আনেন অমূল্য রতন।
ড. বিশ্বম্ভর মন্ডল সাম্য রাইয়ানকে লিখতে গিয়ে তিনিও তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম করেছেন- স্রোতের বিপরীতমুখী নিঃসঙ্গ শব্দ সাধক সাম্য রাইয়ান। তিনি শেষে এও লিখেছেন- রাজনীতি নিয়ে, সমাজ নিয়ে, কবিতা নিয়ে, মিডিয়া নিয়ে, লিটলম্যাগ, সুবিধাবাদ নিয়ে স্পষ্ট উচ্চারণ করার মানুষের অকাল দেখা দেওয়া এক সমাজে সোচ্চার এক ‘মানুষ’ বা ‘না- মানুষ’ এর নাম সাম্য রাইয়ান।
ড. অমিতাভ রায় তিনিও লিখেছেন- সাম্যের রচনার বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হলো সাধারণ শব্দে-বাক্যে অসাধারণকে ধারণ করা।
তারারা’র সহ-সম্পাদক স্বাগতা বিশ্বাস সাম্য রাইয়ানকে লিখতে গিয়ে সরাসরি স্বীকার করে তিনি তাঁর প্রবন্ধের শিরোনামে লিখেছেন- জীবন চেতনার এক স্বাভাবজাত কবি সাম্য রাইয়ান - নয়ের দশকের কবি সাম্য রাইয়ান তাঁর কবিতার মাধ্যমে এপার-ওপার দুই বাংলার পাঠকের হৃদয়ে স্থান নিয়েছেন এই সোশ্যা মিডিয়ার জগতে দূরকে আর দূর মনে হয় না। কবি সাম্য রাইয়ান বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের কবি হয়েও আমাদের ভারতের কবিতাপ্রেমী পাঠকের অন্তরের অন্তঃস্থলে ও মস্তিষ্কে প্রবহমান নদীর মতো বয়ে চলছে তাঁর কাব্যরসধারা স্রোত।
ভারতের প্রখ্যাত লেখক সন্দীপ দাস তিনিও তার প্রবন্ধের শিরোনামে লিখেছেন- সাম্য-অসাম্যের দ্বন্দ্ব ও এক জোড়া পারাবত নিশান, সাম্য রাইয়ানের লেখনী থেকে তিনিও আবিস্কার করেছেন অলৌকিকভাবে- তিনি মনে করেন অসাধারণ শব্দচয়ন ও Simile কবি সাম্যের লেখনীতে। আগুনতি ভিন্ন ভিন্ন নিবিড় দৃশ্যের ঝাঁ চকচকে মিউজিয়ামে দাঁড়িয়েও কবি আদিম শ্রমিক, মাটির কাছাকাছি তার বসত। নতুনের শরীর জুড়ে কোথাও পুরোনো লুকিয়ে থাকে অঙ্গাঙ্গীভাবে।
অনুপ মুখোপাধ্যায় সাম্যের লিটল ম্যাগাজিন ‘বিন্দু’ সম্পর্কে লিখেছেন- কন্সপিরেসি অব সাইলেন্স। কিন্তু এত কন্সপিরেসিও এর সম্পাদক সাম্য রাইয়ানকে দমাতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে সাম্য রাইয়ান নিজেও বলেছেন- ‘সাধুর শক্তি সততায়, কবির শক্তি কবিতায়।’ তিনি জেনেছেন- কুড়িগ্রামের মতো একটি অর্থনৈতিক - সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ জায়গায় থেকে সাম্য রাইয়ান শুধু নিজেকেই বিকশিত করেননি, বরং কুড়িগ্রামকেও এই বিকাশের সঙ্গী করতে চেয়েছেন।
আহমেদ মওদুদ লিখেছেন- কবিতা, কবিতা আর কবিতা। কবিতা দিয়ে মোড়ানো যেন সাম্য রাইয়ানের আদিঅন্ত।
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্য রাইয়ানের কবিতা প্রসঙ্গে লিখেছেন- অসাধারণ দক্ষতার কবি যে সময়ের চিত্র এঁকেছেন তা আমাদের সর্বক্ষণের বিচরণের আকাঙ্খিত ক্ষেত্র।
ধীমান ব্রহ্মচারী তাঁর লিখিত প্রবন্ধের শিরোনামে বলেছেন- কবি সাম্য রাইয়ান: আলো আঁধারের উন্মাদনায় একক পথযাত্রী। তিনি আরো লিখেছেন - আমরা যখনই সাম্য রাইয়ানের কবিতা পড়ি তখন মনে হয় একজন সাধারণ মানুষের কাব্য না হয়ে ওঠার কাহিনী পড়ছি। তিনি সরাসরি বলেন- সমকালীন বাংলা কবিতায় সাম্য রাইয়ান সদা নিরীক্ষাপ্রবণ কবি হিসেবে পরিচিত।
ফেরদৌস লিপি- কবি সাম্য রাইয়ানকে জানতে গিয়ে তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন- তিনি অধুনা দ্বিতীয় দশকের একজন অগতানুগতিক কবি- এ কারণে যে তিনি স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে কবিতা লেখেন না, তাঁর অবচেতনের গর্ভে সচেতন শব্দের জাইগোট ক্রমে পুনঃপুন বিভাজিত হতে হতে পূর্নাঙ্গ আঙ্গিক বা আকারের এক একটা অবিরল প্রবাহের মতো কবিতার জন্ম হতে থাকে। যেন ‘জৈব অবয়বের নিয়মানুযায়ী উৎকৃষ্ট কবিতার প্রত্যেকটি পতঙ্গ, প্রত্যেকটি কণিকা এক অভিভাজ্য অমোঘ সংঘটনের লগ্নতায় আবদ্ধ।’
সব্যসাচী মজুমদার লিখেছেন- আসলে সাম্য এমন এক সময়ের মানুষ, যে সময় সময় বাস্তবিক থেকে ক্রমশঃ জায়মান হয়ে উঠেছে। ক্রমশঃ তার রিয়েলিটিকে বদলে আরবান স্তরন্যাস করছে আর সেই স্তরের একদম প্রান্তিকবর্গ থেকে উঠে আসছে বিধ্বস্ত পৃথিবীর আরেক যাপন কথা।
সুবীর সরকার লিখেছেন- সাম্য রাইয়ান অত্যন্ত শব্দ আর সময় সচেতন কবি। তিনি এও লিখেছেন, কবি সাম্য রাইয়ানকে পাঠ করা মনে একজন সৎ কবিকে আবিষ্কার করা।
সৈয়দ আহসান কবীর লিখেছেন- কবি সাম্য রাইয়ান সময়ের বিপরীতে হাঁটা নিপুন শব্দ সাধক। যা তাঁকে বিশেষত্ব দিচ্ছে, পরেও দিবে বলে বিশ্বাস।
এভাবে দেশ-বিদেশের আরো প্রখ্যাত লেখকগণ যেমন, তামজিম তামান্না, অমিতাভ অরণ্য, সুতপা রায়, সাজ্জাদ সুমন, শামীম ফারুক, বিপুল বিশ্বাশ, আাইরিন সুলতানা, অহম্মেদ তানভীর, কৌশিক সেন, মাহাদী আনাম, শামীম সৈকত, আদিবা নুসরাত, শামসুল কিবরিয়া প্রত্যেকেই আমাদের কবি, লেখক সাম্য রাইয়ানের প্রকাশিত গ্রন্থাবলীর প্রতিটি লেখার, প্রতিটি কবিতার লাইন ধরে ধরে তদের মতামত লিখেছেন, সত্যি পাঠক হিসেবে আমিও অভিভূত হয়েছি মারাত্মকভাবে। পাঠক, আপনিও আমাদের সাম্য রাইয়ানের গ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়ে আপনিও হতে পারেন আমার মতোন অভিভূত-আশ্চর্যান্বিত। শুরুতেই বলেছিলাম- কেন সাম্য রাইয়ানকে সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। এতক্ষণে হয়ত বুঝে গেছেন আমাদের সাম্য রাইয়ান এপার-ওপার দুই বাংলার সাহিত্য পাড়ায় এক অনন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাই এ নাগরিক সংবর্ধনা তাঁর প্রাপ্য।
শেষে কবিতার ভাষায় আমিও বলতে চাই-
পকেট ভর্তি সাপ নিয়ে/ প্রতিদিনের পথচলা/ অর্থ যতনা যাতনা দেয়/ শার্টের বোতাম লাগানো/ তার চেয়ে ঢেড় বেশি যন্ত্রণা।
আমাদের কুড়িগ্রাম জেলার গর্ব কবি সাম্য রাইয়ান সকল প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এগিয়ে যাক নিজস্ব যোগ্যতায়।
শুভেচ্ছাবার্তা
সাম্য লিখিত কবিতার উদযাপন হোক। তরুণ তুর্কি সাম্য রাইয়ান এ সময়ের একজন রাগী-বৈরাগ্য কবি।বাংলাদেশের পরিমণ্ডলে নয়, বিশ্ববাংলায় নিজের কবি সত্তা প্রতিষ্ঠিতকরণ সুসম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বাংলা কবিতার উজ্জ্বল বরপুত্র হিসেবে গণ্য হয়েছেন।সাম্য রাইয়ান কেবল কবি হিসেবেই দাগ কাটেন নি– বরং তার বিচ্ছুরিত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন লিটল ম্যাজিন বিন্দু-র ধারাবাহিক প্রকাশে; তার জাজ্জ্বল্যমান সম্পাদক কৃতি আরেকটি পরিধি স্পর্শ করেছে নিঃসন্দেহে। তিনি এলেন-দেখলেন-জয় করলেন। তাঁর এই জয়জয়কারকে আমরা আনন্দচিত্তে বরণ করে নিতে চাই।
তার সাফল্যকে উদযাপন করে যে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা কবি ও সম্পাদক সাম্য রাইয়ানকে প্রতিফলিত করবে বলে বিশ্বাস। তাঁর সুস্থ দেহ ও দীর্ঘজীবন আমাদের প্রত্যাশা। কবিতায় বিরতিহীন উৎসবে জাগরূক থাকুন সাম্য রাইয়ান।
–সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ, কথাসাহিত্যিক, ঢাকা
সাম্য রাইয়ান- সময়ের শুদ্ধ স্বর, স্বতন্ত্র স্বর। তিনি আমাদের কাছে সৃজনশীলতার সেই অলৌকিক চাবি, যখন আমরা কোনো দরজার আটকে যাই- ভীষণ যত্নে তাঁর কাছে হাত পাতি। এই হাত পাতায় গৌরব আছে, এই গ্রহণ-দানে আবাদ জারি থাকে। নির্মোহ যাপনে তিনি শব্দসাধুতায় আমাদের জন্য এঁকে যাচ্ছেন পরম্পরা, আনন্দ, বিস্ময়। তাঁর এই ভ্রমণ আরও দীর্ঘায়িত হোক, কল্যাণকর হোক, আমাদের জন্য বয়ে আনুক আলোর ঝর্ণাধারা। আমরা স্নাত হয়ে উঠি সাম্য স্নিগ্ধতায়।
–মাহ্দী আনাম, প্রকাশক, ঘাসফুল প্রকাশনী, ঢাকা
আমার বাপটা অনেক বড় হয়েছে, বুঝতেই পারিনি।গগণ এর মতো সীমাহীন হও বাপজান।ভালোবাসা অবিরাম।
–মঈনুল হক মুক্তা (কবির চাচা), সংগঠক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কুড়িগ্রাম
২০১২ সাল। একটা রাজনৈতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে সাম্যর সাথে পরিচয়। আমাদের কথা হতো রাজপথে, চায়ের টেবিলে। ধীরে ধীরে আড্ডার নানান বিষয় হয়ে যায় সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি। বুঝতে পারি, সে শুধু শ্লোগানেই পারঙ্গম নয়, শিল্প-সাহিত্য-দর্শন বিষয়ে পড়াশুনা তার অগাধ। যেহেতু আমি নাটকের মানুষ তাই এসব আলোচনা আমাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। ওর কথায়-কাজে বুঝতে পারতাম সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা অগাধ। এই সাহিত্যের জন্য কত লড়াই করেছে, কত আঘাত সহ্য করেছে, আমি যে সামান্য দেখেছি তারই পরিমাণ কল্পনাতীত। তবুও এত বছর ধরে এই সাহিত্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছে; নাম, যশ, খ্যাতি, টাকার পিছনে ওকে ছুটতে দেখিনি কোনদিন। তবে সময় ওর কাজের জন্য কিছু উপহার দিয়েছে নানান সময়ে। সাম্যর কবিতার চেয়ে আমার বেশি ভালো লাগে প্রবন্ধ। আমি তার প্রথম প্রবন্ধ পড়ি ‘সুবিমল মিত্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় আর যখন শেষ হয় তখন মনে হয় এত দ্রুত কেন শেষ হলো! এখানেই হয়তো লেখকের সার্থকতা। পাঠকের মনে এমন চিন্তার উদ্ভব করতে পারাটা সহজ নয়; সেই কঠিন কাজটি করতে পারেন কবি সাম্য রাইয়ান। তাঁর দীর্ঘ কবিতাগুলো অনেক আমার অনেক প্রিয়, আর প্রিয় বই ‘চোখের ভেতরে হামিংবার্ড’। ওর দীর্ঘকবিতা জীবনপুরাণের দুটো লাইন যা ভীষণ গভীর- এবং আমার প্রিয়,“জেনেও জানে না কেনো দূরন্ত লাটিম/ ধর্মের সীমানা আছে, মানুষ অসীম।” আমি চাই সাম্য রাইয়ানের সাহিত্যজীবন সুদূরপ্রসারী হোক।
–মৌসুমী রহমান, নাট্যকর্মী
সাম্য রাইয়ান। একজন উদীয়মান তরুণ। যার বাস বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেরা অনেক নদ-নদী বেষ্টিত মফস্বল শহর কুড়িগ্রামে। জন্ম এই ভূমিতেই। যিনি কিনা এখান থেকেই কবিতার জাল বুনে চলেছেন একের পর এক। তিনি এখান থেকেই দেখেন পুরো জগৎটাকে। উন্মোচন করেন অন্তলোকের একের পর এক রহস্যকে। প্যালেস্টানি কবি মাহমুদ দারবীশ তাঁর কবিতায় বলেছেন- ‘কবিতা তো ভাতের নুন, চোখের দৃষ্টিরস।’ তেমনি কবি সাম্য রাইয়ানের জীবনযাপনে, মস্তিষ্ক, মননে শুধুই কবিতা। তিনি আর কিছু বুঝতে চান না। তিনি কবিতার চাষ করেন প্রতিদিন প্রতিক্ষণ।আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাঁকে অনুভব করি। কি গভীর মমতায় কবিতাকে সাজাতে হয়, উন্মোচন করতে হয় অজানাকে, তা বুঝি মিশে আছে তাঁর রক্তের সাথে। সাম্য রাইয়ানের জগত আরো উন্মোচিত হোক কবিতার বারিধারায়, এই কামনায় বসে থাকবো আমৃত্যু।
–জুলকারনাইন স্বপন, গল্পকার ও সম্পাদক একাল; সভাপতি, প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম
অনেক কথা বলি বলি করে বলা হয়ে ওঠে না! সাম্যকে নিয়ে কথা বলাটা তেমনি একটা বিষয়। কতবার যে ভেবেছি-লিখবো, কথা বলবো, পারি নাই কিংবা হয়ে উঠছে না! আজ খানিক বলা যেতে পারে…। বেশ কয়েক জায়গায় লিখা দেখলাম- “বর্তমান বাংলা কবিতায় সাম্য রাইয়ান এক উজ্জ্বল নাম।” আমি একটু অন্যভাবে বলি- ‘সাম্য রাইয়ান মানেই আমার কাছে বাংলা কবিতার আরেক উচ্চারণ!’ কেন বলি? অনেকেই আমরা ভাত-কাপর সামাল দিতে দিতে কবিতার চাষাবাদ করি। কিন্তু সাম্য এসেছে শুধু কবিতা করতে! অনেকেই আমরা এপার বাংলা-ওপার বাংলা ভাগ করে, ওপার বাংলা থেকে বই প্রকাশ করার জন্য সব বিসর্জিত করি, সাম্য এসেছে সীমানা লঙ্ঘন করে শিখিয়ে দিতে কবিতার কোন দেশ-কাল-পাত্র নাই। এমন আরো অনেক কিছুই বলা যায় সাম্যকে ঘিরে তবুও কথা থেকে যাবে কারণ খুব সহজ করে বলতে গেলে- দীর্ঘ সময় ধরে কবিতায় মগ্ন সাম্য, তবে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবার ব্যপকতা সবে শুরু হয়েছে ওর। এই পৌঁছে যাবার ব্যপকতার সাথে বেড়ে চলেছে দায়বদ্ধতা! আমি পারি নাই, সাম্য পারবে- এটা দেখবো বলে চেয়ে থাকি সাম্যর পানে… আয়েজক কমিটির প্রত্যেকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা! সকল অন্ধকার দূরীভূত হোক সাহিত্যের মঙ্গলালোকে...
–কবি মাহফুজুর রহমান লিংকন, সম্পাদক www.madhyam24.com
আকাশ দেখতে ভীড় ঠেলে এগিয়ে যেতে হয় না, আমরা জেনে গেছি। আরও রঙধনু রঙ ছড়াও,তোমার বজ্রধ্বণিও প্রয়োজনীয়। ছেড়াঁ ছেঁড়া মেঘ হয়ে বধির শব্দরা লাল-নীল-কালো-সাদা রঙের আঁচলে সারাবেলা ঢেকে রাখবে তোমায়।তুমি শুধু হৃদকলমে ছুঁয়ে দিও, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে, প্রকৃতি শান্ত হবে সবুজে সবুজে বুক ভরবে সবার, শূন্যতায় ডুবে যাবার আগেই।পাখিরা ডানা মেলে উড়বে,বহুদূর বহুদূরের পরিযায়ীরা ভাবেনা তোমার সীমাবদ্ধতা।পুরো পৃথিবীটা তোমার,আমাদের নিঃশ্বাসবায়ু তোমার বুকে।।
–মাহমুদ আল হেলাল উজ্জামান, কবি ও প্রাবন্ধিক
সাম্য রাইয়ান নিঃসন্দেহে একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। তাঁর কবিতা ও গদ্যের ভেতরে সেই লক্ষণগুলো বিরাজমান। সহজাত ভঙ্গির ভেতরে একটি অন্যতর গভীরতায় তাঁর লেখাগুলো উদ্ভাসিত। আমরা জানি, সাম্য রাইয়ানের সাথে বিন্দু পত্রিকাটিও উজ্জ্বল হয়ে আছে। লেখালেখি এবং 'বিন্দু' নিয়ে তাঁর পরিশ্রমী যাপন আমি অবাক হয়ে দেখি। ‘হলুদ পাহাড়’ এর কথা মনে পড়ছে। আমার বিশ্বাস করতে ভালো লাগছে সাম্য রাইয়ান অনেকদূর এগিয়ে যাবে। সাম্যকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
—তানজিন তামান্না, কবি ও সম্পাদক- ওয়াকিং ডিসট্যান্স
আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার, উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি সাম্য রাইয়ানকে শুভেচ্ছা এবং অশেষ ভালোবাসা।
–তানভীর মামুন, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কুড়িগ্রাম জেলা সংসদ
সাম্য তুমি সাম্যের বাণী এনেছো, তুমি করেছো সব কিছু সুন্দর, তুমি এনেছো মিছিলের প্রথম সুর, ধরেছো কবিতার স্লোগান, তুমি ধরেছো প্রথম কলম, এবং তুমি লিখেছো প্রথম কবিতা, তুমি হলুদের পাহাড় নও, তুমি সাম্যের পাহাড়...
–নয়ন সরখেল, লাইব্রেরীয়ান, কুড়িগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরী
‘তারারা’ টেবিলে রেখেছিলাম সেদিন। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি জানালা দিয়ে কিছু রোদ এসে আছরে পড়ছিলো 'তারারা'র উপর। মনে হচ্ছিলো দুপুরের কিছু রোদ দিয়ে প্রচ্ছদ বুনেছেন দয়াময় বন্দোপাধ্যায়। উল্লসিত হয়েছিলাম যখন দেখেছিলাম আমাদের সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে 'তারারা' সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা সংখ্যা বিশেষ সংখ্যা এবং ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে, মূল্যায়িত করেছে তাঁর লেখাকে। ছাত্র ইউনিয়নের সুতো ধরে পরিচয় হয় সাম্য রাইয়ানের সাথে। ‘মার্কস যদি জানতেন’ পুস্তিকা দিয়ে শুরু হয় আমার কবি সাম্য রাইয়ান পাঠযাত্রা। তাঁর কবিতার সুতোয় আকর্ষিত হতে শুরু করি অনবদ্য স্নায়ু তাড়নায়। সাম্য রাইয়ান একজন মানুষ অথবা না-মানুষ যার চোখের ভেতরে প্রতিনিয়ত জন্ম নেয় অজস্র হামিংবার্ড, ডানা ঝাপটায় সশব্দে। সাম্য রাইয়ানের কবিতার গভীরতম ক্যানভাস থেকে বের হয়ে আসুক সমস্ত অমুদ্রিত শব্দের ইতিহাস।
–রিদওয়ান পর্ব, ছাত্রনেতা ও সম্পাদক অনুশীলন
আপনার অসামান্য সাফল্যের জন্য আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আপনার অসাধারণ সাফল্য এবং কৃতিত্ব আমাদেরকে বিষ্মিত, সাহসী এবং স্বাপ্নিক করেছে। আপনি শীর্ষে আরোহণ করেছেন দ্রুত কিন্তু পথটা ছিলো সত্যিই অমসৃণ। আপনার কঠোর পরিশ্রম ফলাফল অবশেষে আমাদের সামনে প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা সকলেই আপনার জন্য গর্বিত। আপনি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমাদের কুড়িগ্রামকে সম্মানিত করে চলেছেন। আমরা আশাবাদী সারাবিশ্বে কুড়িগ্রামকে আপনি আরো আলোকিত করে তুলবেন। আপনার উজ্জ্বল সাফল্যের জন্য গর্বের সাথে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
–রতন অধিকারী, ছাত্রনেতা
সাম্য রাইয়ান দাদার সাথে আমার পরিচয় ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে, পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি একজন কবিও বটে। আমি অনেক আনন্দিত হই, যখন জানতে পারি ভারতীয় পত্রিকা তারারাসহ একের পর এক পত্রিকা আমাদের সাম্যদাকে মূল্যায়িত করছে, সংখ্যা প্রকাশ করছে। কবিতার শক্তিতে অজেয় হয়ে উঠুক সাম্য রাইয়ান দাদা। শুভকামনা সবসময়।
–কৌশিক মোহন্ত, ছাত্রনেতা
বর্তমান সময়ের অবক্ষয়ীত ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধচারণ, স্বল্প সময়ে সাম্যর জীবনের বর্ণিল সংগ্রাম আর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিচরণ আরো বিস্তৃত হোক। সাম্যর পথের জন্য চলমান...
–রুকুনুজ্জামান রুকু, রাজনৈতিক সংগঠক
কুড়িগ্রাম নামে একটি জেলা আছে, সেখানেও বিশ্বমানের সাহিত্য রচিত হয়, একথা হয়তো ভারতের অনেকেই জানতেন না। জেনেছেন তারারা’র সাম্য রাইয়ান বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের পর। সেকারণে একটা ধন্যবাদ তো সাম্য ভাইকে দেয়াই যায়, তাই না? আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সাম্য ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।
–রাজ্য জ্যোতি, সম্পাদক, হিজিবিজি
“উত্তরে ফিরে এলে পূর্বমত মেঘ/ অনিচ্ছায় প্রেমে বাড়ে- পুরনো আবেগ।... অগণন সম্পদশালী- আরও উচ্চ দাম/ বেহিসেবী ঘুমন্ত মেয়ে- তীব্র কুড়িগ্রাম” বর্তমান সময়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে নদীমাতৃক কুড়িগ্রামের কল্পকথা ছড়িয়ে যাচ্ছে যার শব্দঝঙ্কারে তিনি কবি সাম্য রাইয়ান। শব্দ সাধনাই যেন তার ধ্যান এবং জ্ঞান। সাফল্যমণ্ডিত স্বর ও শৈলীতে আমাদের কখনো দেখান ‘চোখের ভেতরে হামিংবার্ড’। আবার জানান, ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’। কাব্য পৃথিবীতে ‘হলুদ পাহাড়’-এ বিচরণ করতে করতেই হুট করে পাঠকের হাতে আসে ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’। ‘লিখিত রাত্রি’ -এর স্তব্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই আয়েশি ভঙ্গিতে ‘হালকা রোদের দুপুর’! এ যেন এক শব্দ সাধকের অনবদ্য সৃষ্টি। সাহিত্যকে ‘বিন্দু’তে কেন্দ্রীভূত করে সুদীর্ঘ পথচলায় বারংবার ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে, অনবরত যাচ্ছেন। অবিরত এ যাত্রায় সাম্য রা্ইয়ানের জয় হোক বিশ্বব্যাপী।
–নুসরাত জাহান, তরুণ লেখক, কুড়িগ্রাম
দেড় যুগের কাজ নিয়ে কুড়িগ্রামকে সারা বিশ্বের কাছে সম্মানীত করে চলা সেই নক্ষত্র হলেন আপনি সাম্য রাইয়ান ভাইয়া। আপনার খ্যাতি শুধু কুড়িগ্রাম জেলায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং ছড়িয়ে পরেছে বিভিন্ন দেশে। আমরা সাহসী হই আপনাকে দেখে।
নক্ষত্রের মতো উজ্জল থাকুক আপনার জীবন। সুখ, সমৃদ্ধি ও ভালোবাসার মাঝে ভালো থাকুন আপনি, অবিরত থাকুক আপনার কলম।
–জান্নাতুল ফিরদাউস মিম, শিশুশিল্পী
কবি সাম্য রাইয়ান, আপনার নামে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় আপনাকে এবং আপনার অসাধারণ সাহিত্যিক কাজগুলোকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। আপনার অনবদ্য লেখা অনেকের হৃদয় স্পর্শ করেছে , আপনার অদম্য কণ্ঠস্বর আপনার কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। আপনি যে অনুপ্রেরণা আমাদেরকে দিয়েছেন এবং যে জ্ঞান এবং প্রতিভা আপনার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সাহিত্যিক জীবনের বাহিরেও, ব্যক্তি সাম্য রাইয়ান হিসেবে তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে আপনার ভালো কিছু করার, তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবার প্রচেষ্টাকেও সম্মান জানাই। আপনার অসাধারণ সাহিত্যযাত্রায় উষ্ণ অভিনন্দন।
–সাদিকুর রহমান, সহযোগী সম্পাদক, হিজিবিজি
বিশ্বময় অধিকাংশ মানুষ যখন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, উন্নয়ন আর উচ্চতার চুলচেঁড়া বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে সময়কে আরো ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে, ঠিক তখনই তরুণ সমাজকে নতুন আলোয় আলোকিত করতে আবির্ভাব হয়েছে ছোট্ট জেলার নিভৃতে বেড়ে ওঠা এক অনন্য তরুণের; তিনি কবি সাহিত্যিক সাম্য রাইয়ান। আজ তাকে সংবর্ধনা জানাতে পেরে আমরা ধন্য। এতো অল্প বয়সে তিনি নিজেকে বিশ্বব্যাপী যে পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়।তাঁর সকল অর্জনে আমরা গর্বিত। তাঁর অর্জন যেন আমাদের অর্জন। তাকে অসংখ্য শুভেচ্ছা জানাই তার সকল অর্জন এবং কর্মকান্ডের জন্য। তিনি ভবিষ্যতে আরো উন্নতি করবেন, সাথে নিজেকে এবং কুড়িগ্রামকে বিশ্ব দরবারে আরো মর্যাদার আসনে নিয়ে যাবেন বলে আমরা বিশ্বাসী।
–মারুফা মলী, সান্নিধ্য বর্মা স্বরুপ ও ফাতিহা তাফসির বর্ষা, সাম্য রাইয়ানের পাঠক
প্রিয় ভাই, প্রিয় কবি সাম্য রাইয়ান আমাদের কুড়িগ্রামের গর্ব। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। সে তার সাহিত্য দিয়ে কুড়িগ্রামকে দেশে-বিদেশে সম্মানিত করতেছে। কুড়িগ্রামের সাহিত্যের বিকাশে এ এক অনন্য অবদান। যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। এই প্রথমবার কুড়িগ্রামে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে,এটিও আমাদের জন্য কম গর্বের নয়।
–এ কে এম মোজাদাদ্দুল ইসলাম রকেট, উন্নয়নকর্মী
কর্কটময় সময়ে পৃথিবীর রক্তমাংসের পদার্থগুলো এলোমেলো বাতাসে ইচ্ছের সোহাগ বিলাচ্ছে। সময়ের মুদ্রাদোষে মানুষ করাতকল জীবন যাপন করে একধরনের বন্য হয়ে উঠছে, সে সময়ে একজন কবিকে নিজ দেশের সীমানার বাইরে সম্মানের ডালি দিয়ে বরণ করেছে। যা এ পতাকাতলের মানুষগুলোর জন্য সম্মানের সামিয়ানা। যে সময়ে নিজ দেশের বোদ্ধামহল চিনিতে পারে না আপনার আপনকে, সে সময়ে একজন কবিকে কাঁচাফুলের মালা গেঁথে সম্মানের মঞ্চে ডাকা হচ্ছে তা যেন এক স্বপ্নের বাস্তব স্ফুরণ। একজন কবিতার শব্দশ্রমিক তথা কবিকে সম্মানিত যারা করেছে তারা নিজেরাই সম্মানিত হয়েছে। পুরো জাতিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শিল্পসাহিত্যের জায়গাটিকে সম্মানিত করা য়ায়। ভালোবাসার পরিসর বৃদ্ধি করা যায়। যা আজকের সময় করেছে তা সাম্য রাইয়াকে আলোকিত পদ্যকার হওয়ার পথ তরান্বিত করায় ওই জনপদের সবাইকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। স্যালুট কবি- স্যালুট, ভালোবাসা।
–মোস্তফা হায়দার, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।
_________________________________________________
শ্বেতপত্র। বিশেষ স্মারক সংখ্যা। প্রকাশকাল: শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সম্পাদক : মোকলেছুর রহমান। প্রচ্ছদ : চারু সোনা রায়
মুঠোফোন : ০১৯১১৮০৭৮৬৯, ০১৭১০৩৯২৫৬০
কবি সাম্য রাইয়ান নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক।
_________________________________________________