চোখের ভেতরে হামিংবার্ড: চিত্রকল্পের গুনগুন শব্দ

❑ শামীমফারুক 

কবি সাম্য রাইয়ানের ‘চোখের ভেতরে হামিংবার্ড’ বইটাতে একটা দৃষ্টির গুনগুন শব্দ পেলাম। সোনামুখী একটা সুইয়ের কাজ দিয়ে বইটা শুরু। প্রথম কয়েকটা কবিতা পড়লেই টের পাওয়া যাবে প্রকৃতি, স্মৃতি, আর অনুভুতি কীভাবে জড়াজড়ি করে থাকে। কোথাও ইমেজ, কোথাও ঘোর, ভাঙ্গা গল্পের টুকরা আর ভরপুর আবেগ। “ফড়িং নয় ধরতে চেয়েছে ফড়িং এর প্রেম” —এ থেকে তার কবিতায় বস্তু ও ভাবের ধারনা টের পেলাম।

‘বিচ্ছেদ’ কবিতায় দেখলাম “পাশে অন্ধ শামুক সোরগোল তুলে নেশাগ্রস্ত সংসারে ডুকে যাচ্ছে হামিং বার্ড কবিতা টায় একটা শক্তিশালী ইমেজ পেলাম – “হাতের তালুতে বয়ে যাবে ঢোরা সাপ, রক্তের ধারা৷” আবার বলছে “মনের ভেতর আছে প্রাকৃত শরীর যাকে কখনো জানা হয় নাই।” এভাবে ওঁর কবিতা ঘুমন্ত মার্বেলের মত গড়িয়ে যাচ্ছে বইটায়।

‘জীবনপুরাণ’ কবিতাটা বেশ ভালো লাগলো। শক্তিশালী কবিতা৷ জানলাম কবে থেকে কবি হৃদয়কে সম্মান করেন। ‘কুড়িগ্রাম’ কবিতাটায় ওভাবে নতুনভাবে কুড়িগ্রামকে সংজ্ঞা দেয়াটা ভালো লেগেছে– “বেহিসেবী ঘুমন্ত মেয়ে তীব্র কুড়িগ্রাম৷”

“গাছটা অসুস্থ, ওকে ডাক্তার দেখাবো” এরকম আরও অনেক সহজ করে বলা লাইন আছে। তবে মাঝে মাঝে একটা বেশি কাব্যময় করার চাপ আছে কোথাও কোথাও, যা ভাল লাগেনি।

ভালো লেগেছে “আন্তঃনগর প্রেম”, সবশেষের কবিতাটা “বানান বিভ্রাট” –কেন জোনাকি আশা জাগায় না, ব্যথা ভোগায় না। এরকম জোনাকিতে কি সাম্য করোনা খুঁজে পাবে এখন?

শামীমফারুক, গৃহবন্দী করোনা দুঃসময়, ঢাকা, ৭ মে ২০২০

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *