কবি সাম্য রাইয়ান: আলো আঁধারের উন্মাদনায় একক পথযাত্রী

❑ ধীমান ব্রহ্মচারী 

১.                                                                       
মৃত্যুপূর্ব গান
অনন্ত ঘুমের ভেতরে আমি ঢুকে গেলাম, অসামান্য প্রেমের চোরাস্রোতে; বিলুপ্ত জীবাশ্মের বুকের উপরে বসে, ধূসর অন্ধকারে দেখা হলো তোমার সাথে। বলি, কেমন আলোর ধারা তুমি, ছায়া মাড়িয়ে চলে যাও!
—স্পর্শশীল প্রজাপতি জানে না কার চোখে ঘুম।
—হারানো পরীর ডানা খুলে রাখো জয়ন্তিকা।
—গুটিকয় ঢেউ কী প্রকারে ভারি হয়ে আছে জুতার পৃথিবীতে!
—জীর্ণ নীলের ভিতরে প্রলয়, শান্তপাহাড়। কিছুটা অবাক।
—অনির্দিষ্ট জনের দিকে কিছু মৃত্যু ছুঁড়ে দিও সত্যিকারের ফুল।
—অবাক বনসাই তোমাকে ধারণ করেছে অধিক আশ্চর্যে।
—তিনটে বাজে মৌ, শীতরাত্রি আজ, হল্লা হবে না কোথাও।
—তামাক ফুলের বাগান ছিলো অন্তিম অরণ্যে একা!
—শান্ত একটা কোলাহল ছেয়ে যাচ্ছে বার্ধক্যবিলাসে।
—মুছে যেতে যেতে মৃদু হাসি হয়ে ঝুলে আছো উত্তাল হাওয়াঘর।
—কমলার জ্যান্ত জোঁক উদ্বেলিত ভালবাসার মতোই মিলিয়ে যাচ্ছে!
—ঈষৎ কাৎ হয়ে থাকা মৌনতা মেলে ধরে দমকলের আলো।
—সামান্য প্রেমের দিকেই ধাবিত পাখিদের সমস্ত গমন।
—তারকার তরঙ্গরাশি থেকে চাপা আর্তনাদের সাথে কারা ঝরে পড়ে!
—অবাক, অবাক হও; দ্বিধাহীন ঢেলে দিচ্ছি পাতে দূরের বনবিড়াল।
—মাঝে মাঝে এক-দুইটা মধ্যরাত দেয়ালে গেঁথে রাখি।
—ভাসমান বাঈজীর হৃদয়ে নিষ্ফল উদ্বেগ গাঢ় হয়ে আসছে।
—তুমি দ্যাখো নাই ওইখানে, নিরস্ত্র নাভির দিকে বহমান রাতের সংগীত।
—অ্যাশট্রে ভারি হয়ে আছে প্রস্তরিত কূটাভাসে।
(মার্কস যদি জানতেন/ সাম্য রাইয়ান)

ওপরের কবিতা পড়তে পড়তে মনে হল এই কবিতাটা দিয়েই লেখা শুরু করি। এবং লেখা যেটা লিখব অর্থাৎ যা বলব সেটা তাঁর কবিতা নিয়েই। আর কবিতা নিয়ে বলতে যাওয়া যেকোনো সাধারণ পাঠকের কাছে খুবই কঠিন। তবুও একজন নিবিড় পাঠক হয়ে কবিতাকে ধরার প্রয়াস থাকা যে নেহাতই কম নয়, তা অনস্বীকার্য। যাক সে কথা। ওপরে যে কবিতা তুলে এনেছি সেই কবিতা অনেক কথা বলে। অনেক ছবি আঁকে। কবিতার নাম ‘মৃত্যুপূর্ব গান’ অর্থাৎ যার অর্থ মৃত্যুর আগের গান। অর্থাৎ একই দিকে মৃত্যু আবার অন্যদিকে জীবন। আর এই জীবনের গান গেয়েছেন যেন কবি নিজেই। জীবনের প্রতিস্পর্ধা যখন মাঝে মাঝে সব সীমাকে ভেঙে অসীমের উদ্দেশ্যে এগোতে থাকে তখনই মনে হয় একটা বিরাট সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে কোথাও একটা চলে যাওয়া নিতান্তই খুবই কঠিন। আর এই কাজ কবিরা স্বয়ং করতে পারেন। এবং এই পর্বে কবি সাম্য বাংলার কবি হয়ে অনেকটা এগিয়ে। ওপরের কবিতার শুরুর দিকটা কি চমৎকার তাই না, ‘অনন্ত ঘুমের ভেতরে আমি ঢুকে গেলাম,’— এই যে অনন্ত ঘুম সেই ঘুমই তো মৃত্যুর দ্যোতনা। কবি চিরনিদ্রায় যাবার আগে ‘ধূসর অন্ধকারে দেখা হলো তোমার সাথে’— এখানে এই তুমি কে? স্বভাবতই কবির প্রেমিকা। একই অর্থে কবির চেতনা।

আসলে আমার একটু অন্যরকম ধারণা আছে, সেটা হল কবি মাত্রই তিনি অনেকটা আধ্যাত্ম চেতনা সম্পন্ন হবেই (সাধারণত শিল্পীর অধিকাংশই এই সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে)। ফলে এই বিশ্বের বাইরে গিয়ে দেখা বা এই বিশ্বের বাইরে বহির্বিশ্বে নিজের চেতনার রূপ প্রতিপন্ন করাও একরকমের ঐশ্বরিক চিন্তায় বর্তায়। তাই কবি জগতের চিরন্তন সত্য অর্থাৎ মৃত্যুকে ‘ধূসর অন্ধকার’ বলে কবিতায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা কবিতা পড়তে পড়তে ঘোরে ডুবে যাই। আবার এরই পাশাপাশি মৃত্যু প্রেমের আড়ালে আবডালে ফসলের স্বাদ অনুযায়ী মাঝে মাঝেই নিজের কাজের প্রতি আস্থা রেখেছেন।

অ্যারিস্টটল পোয়েটিক্সে মানুষের কাজ নিয়ে বিশেষ কথা একটু স্মরণ করি, “মানুষের সুখ অথবা দুঃখ নির্ভর করে তার সামগ্রিক কার্যকলাপ বা কর্মকাণ্ডের উপরেই। আমরা যে বাঁচি সেটাও একটি নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড বা কার্যকলাপেরই সমষ্টি। চারিত্রিক গুণাবলী আমাদের দেয় সেই কার্যকলাপের এক সামগ্রিক পরিচিতি। জীবনে আমরা খুশি না অখুশি, সেই দোলাচলের, এক অমোঘ মূল্যায়ন। নাটকে যেমন অভিনেতারা কেবলমাত্র একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই অভিনয় করেন না। অভিনয় করেন নাটকের সামগ্রিক চরিত্রগুলির চরিত্রায়ন ও তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করার জন্য।” অর্থাৎ সমষ্টিগত শিল্পের মাধ্যমে নির্মিত হয় একটি সামাজিক কার্যকলাপ। এখন তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে তাতে এর সঙ্গে এর কী সম্পর্ক? আসলে কবি নিজেই বলছেন:
“—স্পর্শশীল প্রজাপতি জানে না কার চোখে ঘুম।
—হারানো পরীর ডানা খুলে রাখো জয়ন্তিকা।
—গুটিকয় ঢেউ কী প্রকারে ভারি হয়ে আছে জুতার পৃথিবীতে!
—জীর্ণ নীলের ভিতরে প্রলয়, শান্তপাহাড়। কিছুটা অবাক।
—অনির্দিষ্ট জনের দিকে কিছু মৃত্যু ছুঁড়ে দিও সত্যিকারের ফুল।
—অবাক বনসাই তোমাকে ধারণ করেছে অধিক আশ্চর্যে।
—তিনটে বাজে মৌ, শীতরাত্রি আজ, হল্লা হবে না কোথাও।
—তামাক ফুলের বাগান ছিলো অন্তিম অরণ্যে একা!”

এক সীমাহীন অনন্ত যাত্রা। এবং এই যাত্রার নায়ক কবি নিজেই। প্রকৃতির মাঝে সব সীমাকে খুব ভালো করে দেখা বা বোঝার জীবন আমদের হতে খুবই কম, তবুও যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তাতেই  কবি নিশাচরের মতো অপেক্ষা করে থাকে প্রেয়সীর। হারানো পরীর ডানা খুলে রাখো জয়ন্তিকা। আচ্ছা এই জয়ন্তিকা কে? কৌতুহলবশত খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, কবির ছোটবোনের নাম জয়ন্তিকা। আসলে আমাদের বাংলার কবিদের মধ্যেই আমরা নানান সময় কবিতার আত্মাকে খুঁজে পাই। কবি নিজেও অনেকটা উন্মাদনা সৃষ্টির অংশীদার। আর প্রতিনিয়ত কাজের মধ্যে দিয়ে কবি স্পষ্ট বুঝিয়েছেন কবিতার মধ্যে দিয়েই, আর আরও একটি লাইন ‘অবাক বনসাই তোমাকে ধারণ করেছে অধিক আশ্চর্যে’। আসলে কবিতার লাইনগুলো পড়লে মনে হয়, কবি আমাদের সাধারণ জীবনের ঘটে যাওয়া স্মৃতিগুলোর অনুসন্ধান করেছেন। জীবন কতটুকু? কতটা দামী? ভোরের হালকা সূর্যের আলোয় দেখা আকাশের মতো কিছু রঙ বারবার কবি দৃষ্টিকে করেছে তোলপাড়। আবার একটা লাইনে কবি লিখছেন,
“অবাক, অবাক হও; দ্বিধাহীন ঢেলে দিচ্ছি পাতে দূরের বনবিড়াল।
—মাঝে মাঝে এক-দুইটা মধ্যরাত দেয়ালে গেঁথে রাখি।” 

কবি কতটা সংবেদনশীল, তা-না-হলে অচিরেই এই অনুসন্ধানের পথে যেতেন না। যে পাঁচিল আপামর বাংলার ঘটনা না হয়ে ওঠার গল্প হয়ে বাঁচছে।  আবার একটা কবিতা যেন অনেকটা স্বচ্ছতা এনেছে কবির কবিতা চিন্তায়। সাম্য লিখছেন:

মেশিন

আবার প্রথম থেকে, নতুন করে লিখছি পুরোটা
বিগত সময়ের কর্মকে কেটেকুটে, ব্যাপক
কাটাকাটি হলেও নতুনে রয়েছে ছাপ, পুরানের

চিহ্নিত হচ্ছে ধীরে, না-লেখা কলম, তেলের কাগজ
তা-হোক, তবু আবিষ্কৃত হোক প্রকৃত যাপন...

আদিম শ্রমিক আমি; মেশিন চালাই।
মেশিনে লুকানো আছে পুঁজির জিন
চালাতে চালাতে দেখি আমিই মেশিন
(বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা/ সাম্য রাইয়ান)

আসলে কবি মারাত্মকভাবেই কবিতার আচারকে করেছেন শেষ অবধি নিজের বা ব্যক্তি যাপনের মাধ্যমে প্রকাশ। কবি প্রথম থেকেই নতুন বছরের কবিতা লিখছেন। এবং কবি নিজে একজন প্রজা প্রতিনিধি স্বরূপ কবিতার বলয়ে নিজের জমি খোদাই করছেন। খুব সামান্য ঘটনার পরম্পরা সাজিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ পাঠকের কাছে। প্রতিনিয়ম তিনি লিখছেন। এই লেখা একধরনের চাষ আবাদের মতো কবি নিজেই সেটা উপলব্ধি করছেন। উনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম তিন পুরোধা এক) চার্লস ডারউইন (১৮০৯), দুই) সিগমুন্ড ফ্রয়েড(১৮৫৬) ও তিন) কার্ল মার্ক্স (১৮১৮)। এই তিন ব্যক্তি সমসাময়িক বিশ্ব চিন্তার আধুনিকতার পুরোধা।সেখান থেকেই কবিদের তৈরি হয়েছে মুক্ত চিন্তার বাতাবরণ। এবং এখন থেকেই তৈরি হচ্ছে বিরাট যুদ্ধের প্রস্তুতি। মানুষের চেতনায় আঘাত হানছে সাম্রাজ্য ও নৈরাজ্যবাদ। মানুষের চিন্তায় ঢুকছে আদর্শের কথা, জীবিকার সন্ধানে কত মানুষ ঘর ছাড়া হচ্ছেন, দেশের কত মানুষ প্রতিনিয়ত শোষিত হচ্ছে, চারিদিকে সমাজের একটা বিরাট অংশের আর্থিক উন্নয়ন ও সামাজিক সম্মানের ফলে, প্রতি দুটো মানুষের মধ্যে ঘটছে একটা লড়াই। একে অপরকে ছাপিয়ে যাবার লড়াই। আবার অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। মানুষ নিজের পেটের তাগিদে নিজের ক্ষুধার জ্বালায় হয়েছে ব্যতিব্যস্ত। তাই প্রতি নিয়ত শঙ্কা বেড়েছে। কবি তখন নিজেই বলছেন: ‘নতুন করে লিখছি পুরোটা/বিগত সময়ের কর্মকে কেটেকুটে, ব্যাপক/কাটাকাটি হলেও নতুনে রয়েছে ছাপ, পুরানের’ —এই বারে বারে পুরোনোকে আশ্রয়ের সন্ধান কবি নিজে করেছেন। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা কবি ব্যক্ত করেছেন আমাদের মধ্যে। তিনি বলছেন ‘আদিম শ্রমিক আমি; মেশিন চালাই/মেশিনে লুকানো আছে পুঁজির জিন/চালাতে চালাতে দেখি আমিই মেশিন।’ এই প্রসঙ্গে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাসের কথা আমাদের মনে বাসা বাঁধে। মানুষ আপনা আপনিই কেমন হারিয়ে যাচ্ছে একটা বিরাট না ঘটনা ঘটার বিপরীতে। ফলে আমরা যখনই সাম্য রাইয়ানের কবিতা পড়ি তখন মনে হয় একজন সাধারণ মানুষের কাব্য না হয়ে ওঠার কাহিনি পড়ছি। এই প্রসঙ্গেই আমাদের কবি বিনয় মজুমদারের ‘অধিকন্তু’ গ্রন্থের একটা কবিতাখণ্ডের কথা মনে পড়ছে:
“এই যে জীবন জানি জীবনের অনেকাংশ, অধিকাংশ জানি
এতে কোনো ভ্রান্তি নেই—ভ্রান্তি আছে ব’লে অবিরত
যেই ভ্রান্তি হতে থাকে তা কখনো ঈশ্বরের মতো হয়ে যায়—
দশমিক পরবর্তী শূন্যের প্রবাহ হয়ে মহাশূন্য ভ’রে ফেলে ক্রমে 
হৃদয় একাগ্র হয়, নিষ্পলক নেত্র হয় গভীর নিয়মে।”

—এই ভ্রান্তি আমাদের একান্ত গোপনীয়তা। আমরা বুঝতে পারি, তাই সন্তর্পনে আগলে রাখি। আমরা নিজেরাই এই অসময়ের ইতিহাসের নায়ক হয়ে উঠি। সমকালীন বাংলা কবিতায় সাম্য রাইয়ান সদা নিরীক্ষাপ্রবণ কবি হিসেবে পরিচিত; যিনি তাঁর প্রতিটি কবিতার বইয়ে নিজেকে নবরূপে নির্মাণ করেন। নিজেকে ভাঙেন, গড়েন; গড়ে তোলেন এক নতুন জগৎ। সাম্য রাইয়ানের জন্ম ৩০ ডিসেম্বর (নব্বই দশক), বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায়। ২০০৬ থেকে সম্পাদনা করছেন বাঙলা ভাষার অন্যতর লিটল ম্যাগাজিন ‘বিন্দু’ www.bindumag.com. তাঁর লেখা কবিতা, প্রবন্ধ ও মুক্তগদ্য বাঙলাদেশ ও ভারতীয় লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাঁর রচিত কবিতার বইগুলো হলো: ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’, ‘মার্কস যদি জানতেন’, ‘হলুদ পাহাড়’, ‘চোখের ভেতরে হামিংবার্ড’, ‘লিখিত রাত্রি’ ও ‘হালকা রোদের দুপুর’। একটি মুক্তগদ্যের বই ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’। এছাড়া তিনি দুইটি অমূল্য গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন, ‘উৎপলকুমার বসু’ ও ‘জন্মশতবর্ষে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’। যা সচেতন বোদ্ধা পাঠকমহলে বিপুল সমাদৃত হয়েছে। 

২.
কবিতায় আমরা যখন আমাদের শৈশব পাই, পাই উঠোন বিছিয়ে পড়ে থাকা ধানের গন্ধ। সন্ধের আকাশের ক্লান্ত বাদুড়ের চলাচল। রাতের নিশাচরের নজরদারী, তখন বারবার মনে হয় এইতো আমি। কবি কি আমার কথা বলছেন? আমারও সেই শৈশব গ্রামের স্মৃতি। কত মানুষের ভালোবাসা, মাটির ধুলো গায়ে মেখে নেওয়া। তাই আমাদের ফেলে আসা স্মৃতি উসকে কবি আমাদেরকেই ভাবান। ভাবতে থাকি আমরা। 

হলুদ পাহাড়

ভাবছি, কাউকে বলবো একটা পাহাড়ের ছবি বানাতে। হলুদ পাহাড়, তার উপরে মেঘ, শাদা শাদা মেঘ। দূর থেকে দেখে গাঁদাফুল ভেবে ভ্রম হবে মানুষের।
ওরা খুশি হবে। মানুষ ভ্রমে প্রকৃতই আনন্দ পায়। পাহাড়ে উঠবে সকলে। কেউ কেউ পকেটে কিংবা পাটের ব্যাগে ভ্রমের আনন্দ ভরবে।
কিন্তু হলুদ পাহাড়ে হৈ-হুল্লোর নিষেধ।

ওপরে ‘হলুদ পাহাড়’ বইটার একটা কবিতা তুলে আনলাম এখানে। প্রথম লাইনে কবি একটা আচমকা ফরমায়েশি করেছেন সাধারণ মানুষের কাছে। যে তিনি পাহাড় বানাবেন, সেখানে পাহাড় অবশ্যই মাটির হবে। এবং অদ্ভুতভাবেই সেটা দেখার জন্য মানুষের ভিড় বাড়বে। আর এই ভিড়ের কোলাহল কোথাও একটা উন্মাদনা সৃষ্টি করবে সব উৎসাহীদের ক্ষেত্রে। এমনই এক ভাবনার কথা কবি বলছেন। তারপর দূরের থেকে সেই সৌন্দর্য দেখেই কবির তৃপ্তি সম্পূর্ণ হবে। কিন্ত কবিতায় সেটা হয়ে উঠবে না। আসলে এখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও ভ্রমের বাতাবরণ নির্মাণ করেছেন কবি। আসলে আমরা মানুষ কখন কী চাই? কীভাবে চাই? বা সেই চাওয়ার গুরুত্ব বা অধিকার বিচার করি না। বিচার যা করি তা হল ক্ষণিকের আত্মভ্রম। এই ভ্রমের মাধ্যমেই কবি উপলব্ধি করবেন বিশ্ব চেতনা, নিয়ে যাবেন কবিতা প্রেমী সেই নির্জনতায়, যেখানে আমরা থাকব আত্মমগ্নতায়।

কবিতার দ্বিতীয় লাইনের প্রথম শব্দ ‘ওরা’ যেখানে লেখা হয়েছে অর্থাৎ ‘ওরা খুশি হবে’, এখানে আনন্দের উৎসের একটা সম্ভাবনার কথা বলেছেন কবি। এবং এই যাওয়া যেন সাংকেতিক যাওয়ার মতো। কবি এই দূরের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বলেছেন। অথচ এই কথা কতোটা বাস্তবতার আঁচ রয়েছে। কবি লিখছেন, ‘পাহাড়ে উঠবে সকলে।’ এই লাইন থেকেই কবিতা আগামির একটা চরম সম্ভাবনার বিপ্লবের কথা বলেছেন। আমরা এভাবেই কবিকে চিনি। দেখি। সম্পর্কের অনুসন্ধানের সরঞ্জাম নিয়ে লেখা হয়েছে অর্থাৎ কেমন যেন একটা নির্ভাবনায় আশ্বাস আসে তার কাছে থেকে। আর কবিতার শেষে বলছেন বিধি নিষেধের ফরমান। কোনো কিছুই থাকবে না, যা থাকবে সেও যেন একরকম ইতিহাস। এই বিভিন্ন পথে দেখার যে বিরাট সুযোগ, সেই ঘটনার দলিল যেন ‘হলুদ পাহাড়’। এই প্রসঙ্গে আমার একটা লেখা মনে এল— ‘মানুষের সুখ অথবা দুঃখ নির্ভর করে তার সামগ্রিক কার্যকলাপ বা কর্মকাণ্ডের উপরেই। আমরা যে বাঁচি সেটাও একটি নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড বা কার্যকলাপেরই সমষ্টি। চারিত্রিক গুণাবলী আমাদের দেয় সেই কার্যকলাপের এক সামগ্রিক পরিচিতি। জীবনে আমরা খুশি না অখুশি, সেই দোলাচলের, এক অমোঘ মূল্যায়ন। নাটকে যেমন অভিনেতারা কেবলমাত্র একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই অভিনয় করেন না। অভিনয় করেন নাটকের সামগ্রিক চরিত্রগুলির চরিত্রায়ন ও তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করার জন্য।’ —অ্যারিস্টটলের পোয়েটিক্স

৩.
পরিশিষ্ট
সাম্য রাইয়ানের লেখা ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’-এর ভূমিকা থেকে:
“এই লেখাকে কোনোমতেই প্রবন্ধ বলে ভুল চিহ্নায়ন উচিত হবে না; কারণ প্রবন্ধের মতো এর কোনো প্রকৃষ্ট বন্ধন নেই, প্রবন্ধের আদলে এটি তৈরি হয়নি; এখানে, এইভাবে, একগুচ্ছ নোটের সমাহার উপস্থাপন...
নোটগুলিতে কখনো সাক্ষাতকার, কখনো গদ্য-গল্প কখনোবা উপন্যাসের লাইনটাইন ঢুকে গ্যাছে, অনিবার্যতায়। যদিও কথা ছিলো একটি প্রবন্ধ লিখব ‘বাঘের বাচ্চা’র জন্য, বাঘের বাচ্চাকে নিয়ে—
For the ‘Bagher Baccha’,
Of the Bagher Baccha.
কিন্তু আমার ব্যর্থতায় তা আর হয়ে উঠলো না! তার লেখা পড়তে পড়তে মগজে মননে ঘটা বিক্রিয়াগুলি নোট আকারে রয়ে গেল! সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সুবিমল যেভাবে বিপ্লব নায়ককে ‘বারবার এড়িয়ে গ্যাছেন । উল্টোপাল্টা কথা বলেছেন আর একটার পর একটা পাউচ পাকিয়ে গ্যাছেন।’ অনেকটা সেভাবেই, তাঁর আলোচনাটিও এড়িয়ে যাচ্ছে বারবার। ধরা দিচ্ছে না! হয়ে উঠছে না— প্রবন্ধ; আদতে এটি শেষপর্যন্ত হয়ে উঠেছে প্রবন্ধহীন-প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনহীন। এখানে, এভাবে, পুরো অংশ, সুবিমল মিশ্র, বিশেষত তার সাক্ষাৎকার পড়তে পড়তে লেখা নোট, পাঠ অনুভূতি বা প্রতিক্রিয়া যা-ই বলুন, কিছু একটা।”

সম্প্রতি আমরা হারালাম সুবিমল মিশ্রকে। এই সুবিমলের প্রতি তাঁর আস্থা এবং বিশ্বাস অনেকটা অন্যরকম। এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করা যেতেই পারে। কিন্তু এই আলোচনার এক অন্যতম প্রাসঙ্গিকতা হিসেবে তাঁর অগ্রজের প্রতি নৈতিক পর্যালোচনা, এবং সর্বোপরি কবি হিসেবে তাঁকে চেনানো, ‘তাঁর লেখা পড়তে পড়তে মগজে মননে ঘটা বিক্রিয়াগুলি নোট আকারে রয়ে গেল!’ এই স্বল্প পরিসরেই অদ্ভুতভাবে সাম্য রাইয়ানকে আমরা অনায়াসে খুঁজে পাই। আসলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী আজকের দ্বিবিংশ শতাব্দীতে এসে কথা বলার অভিপ্রায় প্রায় সকলেরই অনেকটা আলাদা হবে। আসলে যেকোন শিল্পী মূলত স্বাধীন এবং এই স্বাধীন স্বাধীনতা তাঁর প্রথম পরিচয় বহন করেন। আমি তবে এই প্রসঙ্গে খুব বিরাট তত্ত্বনির্ভর কিছু বলার ইচ্ছা রাখব না, যেটুকু রাখব সেটা শুধুমাত্র সুবিমল প্রসঙ্গে কবি সাম্য রাইয়ান এর কিছু প্রস্তাবিত কাজ। যা থেকেই সহজে বোঝা যাবে, সাহিত্যে এক অগ্রজের প্রতি আস্থা।

মূলত এই প্রাতিষ্ঠানিকতা কোথাও যে একটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরুদ্ধেই এক অনন্য প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার নিদর্শন। এবং এই কথাকে সম্পূর্নরূপে স্বীকৃতি দিতে একটি প্রসঙ্গ টেনে আনি, তা হলো—
“সুবিমল মিশ্রর লেখালিখি প্রসঙ্গে তার নিজের একটি যথোপযুক্ত বক্তব্য আছে। যদিও আমার মনে হয় এই বক্তব্যটি আসলে লিটলম্যাগাজিন কর্মীদের প্রত্যেকের বক্তব্য; একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি তেমন কোনো লেখা লিখতে চাই না যা পড়ে লোকে আমার পিঠ চাপড়ে বলবে বাহা বেড়ে সাহিত্য করেছ তো হে ছোকরা। আমি চাই লোকে আমার লেখা পড়ে আমার মুখে থুথু দিক, আঙুল দেখিয়ে বলুক: এই সেই লোক যে উপদংশসর্বস্ব এই সভ্যতার ঘা-গুলো খুঁচিয়ে দিনের আরোর মতো খোলাখুলি করে দিয়েছে।”
অর্থাৎ লিটল ম্যাগাজিনকর্মী এই তকমায় কি যেকোনো লেখককে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠানবিরোধী করে তুলছে না? একটি লিটল ম্যাগাজিন মানেই কিন্তু একটি স্বতন্ত্র স্বর, নির্ধারিত একটি পন্থা, নির্বাচিত গোষ্ঠী— এক কথায় একটি বিপরীত মুখ। মূলত লেখার প্রতিই একাগ্রতা, লেখাটাকে সামনের পাঠকের কাছে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অথবা একটি সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ছায়ার বিপরীতে একটি সাহিত্য বা শিল্প কীর্তি স্থাপন। এই বিরোধিতারই অপর নাম হয়ে উঠেছিল সুবিমল মিশ্র। পাঠকের একটু নির্দিষ্ট অথচ সহজ সরল বোধগম্যতার পরিপূর্ণ হবে কোনো শিল্প। আর এখানেই কিন্তু একই ভাবে প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে আরও একটি দেওয়াল অর্থাৎ opposite wall. এভাবেই প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করতে করতে বিরোধী দল বা বেক্তি বা শিল্পী একদিন নিজেই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান।

শঙ্খ ঘোষের একটি বই ‘কবির বর্ম’। বেশ কিছু কথা। তাঁর নানান আলোচনা এবং সেই বইটিতে আলোচিত বেশ কিছু ঘটনা। এক জায়গায় এক ঘটনার কথা লিখছেন— “স্বাধীনতা পরবর্তী পাঁচ বছরের সাহিত্যচর্চা নিয়ে কয়েকদিনের এক আলোচনাসভা বসেছিল শান্তিনিকেতনে, ১৯৫৩ সালের বসন্তে। কবিতার কথা বলতে গিয়ে সেই সভায় সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘কিন্তু সমস্ত কিছুর মধ্যে থেকেও যিনি কিছুর মধ্যেই নন, সেই ভাবান্তরহীন কবি হলেন জীবনানন্দ দাশ।’ এই মন্তব্য দিয়ে শুরু করে জীবনানন্দ বিষয়ে যে বিচার তিনি দিয়েছিলেন সেদিন, তার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তাঁর ধিক্কার আর প্রত্যাখ্যান। জীবনানন্দের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ ছিল এই যে তিনি শুধু তাসের ঘর সাজান, সময়ের কণ্ঠরোধ করে কথা বলেন তিনি। শব্দ তার কাছে বস্তুবিরহিত সংকেত মাত্র।’ কথাগুলি শেষ করবার পর মঞ্চ থেকে নেমে আসছেন যখন, প্রত্যক্ষ দর্শক আর শ্রোতা হিসেবে আমাদের কারও কারও মনে আছে, বুদ্ধদেব বসু ঝাঁপ দিয়ে উঠলেন এর প্রতিবাদের জন্য। মনে আছে, সিঁড়িতে পা রেখে নিবিষ্ট দাঁড়িয়ে আছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শুনে নিচ্ছেন প্রতিবাদ, শুনছেন বুদ্ধদেবের বক্তৃতা শেষে এই তর্জনময় অথচ সস্নেহ নির্দেশ: “সুভাষ, পরে আমার সঙ্গে দেখা কোরো।”

সেদিনই যে তাঁদের দেখা হয়েছিল, তা জানি। কিন্তু সেই দেখায় আর কথায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতির কি কোনও বদল হয়েছিল? অন্তত এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ‘পরিচয়’ পত্রিকায় আমাদের তো পড়তে হলো তাঁর কয়েক পৃষ্ঠা লেখা, ‘নির্জনতম কবি সে-লেখার নাম, আক্রমণের ঝাঁঝ আরও তীব্র হলো যে লেখায়। জীবনানন্দের মৃত্যুর মাত্র একবছর আগে, সে লেখায় আমরা জানলাম যে দুই যুদ্ধের মধ্যবর্তী দুটি দশক বুদবুদের মতো মিলিয়ে যায় তাঁর কবিতায়, জানলাম যে তিনি শুধু ‘নিরালম্ব শূন্যতাকে চোখে আঙুল দিয়ে’ দেখান, ‘প্রত্যেকের মুখে তিনি এঁটে দেন কুয়াশার একই মুখোশ’, তাঁর কবিতায় থাকে শুধু ‘ঘাসের ভিতর ঘাস হয়ে’ মৃত্যুর জন্য ‘নতমস্তকে’ অপেক্ষা করা। আমরা শুনি যে জীবনানন্দের কবিতা ভরে আছে শুধু ‘মানুষের প্রতি তাঁর নিদারুণ বিদ্বেষ, পৃথিবীর প্রতি তাঁর উদ্ধত অবজ্ঞায়,’ এর অনেক উদাহরণের মধ্যে প্রকট হয়ে থাকে ‘অন্ধকার’ কবিতাটির উদ্ধৃত কয়েকটি লাইন, যেখানে কবি শত শত শূকরের চিৎকারে শত শত শূকরীর প্রসববেদনার আড়ম্বরের কথা বলতে চেয়েছিলেন। তখনও, এবং আজও, এই লেখা বেশ গুরুত্ব পায় কেবল এজন্য নয় যে একজন কবির বিষয়ে আরেকজন কবিই কথা বলছেন এখানে; এ-লেখার আরও একটা স্মরণীয়তা এইজন্য যে সমকালীন বড়ো একজন কবির বিষয়ে একটা মার্ক্সবাদী বিচারের চিহ্ন রয়ে গেল এখানে। ওপরে বলা ওই মন্তব্যগুলি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত মত মাত্র নয়, এমনকী এতটাও বলা যায় যে ব্যক্তিগতভাবে এ হয়তো তাঁর মতই নয়, এর মধ্যে একটা সংঘগত দৃষ্টি কাজ করছিল সেদিন। “...এই ঘটনার একটি মূল দিক, যা হল এক কবির শিল্প দৃষ্টির বিপরীতে দ্বিতীয় কবির দৃষ্টিভঙ্গি বা যুক্তি এবং বিরোধী বক্তব্য। আসলে প্রতিবাদী স্বরের বিপরীত এক অঅনুকরণ পন্থা এবং যা সর্বাংশে সত্য ও যুক্তিপূর্ণ। আবার বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিকতার বিপরীতে খুব সাধারণ ও সহজ সরল এমনকি বাস্তবতার মূর্ততা নিয়েই তো একজন শিল্পী ছবি আঁকবেন, কবি কবিতা লিখবেন, পরিচালক সিনেমা বানাবেন। আসলে এই বিপরীতে দাঁড়িয়ে যেন খুব সহজে গায়ের ঘা গুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জ্বালা জুরোনোর পালা তৈরি হয়।আমরা সাধারণ পাঠক তা থেকেই নির্যাস তুলতে পারি স্বাচ্ছন্দ্যে। সাম্য এই প্রসঙ্গেই টেনেছেন সুবিমল মিশ্রকে। ২০১৫-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’ শীর্ষক শীর্ণকায় অথচ বারুদঠাসা এ বইটিই বাংলাদেশে প্রথম সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে বই। সস্তার বাজারে বেহাল্লাপনার উদাসীনতা কাটিয়ে উঠতে পারাতেই আছে ইজমের প্রকৃত আস্থা। তা-না-হলে সস্তার শিল্প হয়ে বেঁচে থাকার বিপরীতে রাজ কর্মচারী হয়ে বেতনে মশগুল হওয়ার আনন্দই প্রাপ্তি। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকতা বিরোধী আজ মাথা চাড়া দিয়েছে বলেই, একটি দীর্ঘদিনের চলমানতার বিরোধী স্বর গড়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। যাদের অগ্রগণ্য পথিক হিসেবে সুবিমল মিশ্র থেকেই যাবেন। এই বইটির মধ্যে দিয়েই সুবিমলের প্রতি অশ্লীলতার অভিযোগের সত্যতা আঙ্গুল দিয়ে বিরোধিতা করা যায়।আসলে আমরা প্রত্যেকেই এই একটি বন বন ঘুরতে থাকা পৃথিবীটার মধ্যেই খুঁজছি আলো। আলোর ভেতরে বয়ে যাচ্ছে আমাদের অদৃশ্যমান অন্ধকার।

আমরা পৃথিবীর ভেতর থেকে খুঁজতে থাকি ওঁকে; এদিক ওদিক ছুটি— খুঁজি, ডাক দিই—
—হোয়ার আর ইউ
—সাম হোয়ার ইন দ্য ডার্ক।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *