বাংলা সাহিত্যে নতুন পাঠঅভিঘাত সাম্য রাইয়ানের ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’

লোকাল ট্রেনের জার্নাল - সাম্য রাইয়ান
❑ ড. অমিতাভ রায় 

‘ব্যাগভর্তি গুডবাই নিয়ে চললে কোথায়?’ এই একটি বাক্যের ছবি ফেসবুকে কারো টাইমলাইনে পেয়েছিলাম৷ তাকে লেখকের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি৷ পরে হঠাৎ আরেকদিন এই বাক্যটি পেলাম এক বন্ধুর টাইমলাইনে, সঙ্গে লেখকের নাম— সাম্য রাইয়ান৷ মাত্র পাঁচ শব্দের একটি বাক্যই যেন অমোঘ নিয়তির মত আমাকে টেনে নিয়েছে সাম্য রাইয়ানের সাহিত্যসম্ভারের নিকট৷ এরপর জানতে পেলাম সাম্য রাইয়ানের গদ্যের বই ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ এর উৎসর্গবাক্য এটি৷ ১৩টি গদ্য নিয়ে এ সংকলনটি বাংলাদেশ থেকে ঘাসফুল প্রকাশ করেছে ২০২১ খ্রিস্টাব্দে৷

গ্রন্থভুক্ত ১৩টি গদ্যকে আমরা প্রধানত দুইভাগে ভাগ করতে পারি৷ কারন দুই ধারার গদ্য এই গ্রন্থভুক্ত হয়েছে৷
প্রথম ধারা:
• দুলে ওঠে তোমার প্রদীপ
• বিদীর্ণ আলোর ধারা
• পৃথিবী খুব একটা মজার জায়গা না
• একটা সত্যি কথা বলো

দ্বিতীয় ধারা:
• হাঁটতে হাঁটতে পথ গ্যাছে ক্লান্ত হয়ে
• টোলখাওয়া চেহারায় আঁধারে দাঁড়িয়ে লাভ নেই
• প্রচণ্ড নীরবে খসে পড়ে রাত্রির সমস্ত কাঠামো
• শিল্পী যা বলেন তা গুরুত্বপূর্ণ, যা বলেন না তা-ও গুরুত্বপূর্ণ
• অন্ধকারে সাঁতার কাটে নিঃসঙ্গ সোনার হরিণ
• রাত্রি একটা অনাহুত বেদনার নাম
• শাদা অন্ধকারে অন্য মন্ত্র
• কালোবাঘ-লালকাক পাশাপাশি শুয়ে থাক
• কবিতার পূর্ণদেহে নদীর নিজস্ব ঘ্রাণ

আমার মনে হয়েছে এই গ্রন্থের গদ্যগুলোকে দু'টো আলাদা গ্রন্থরূপ দিলে উত্তম সিদ্ধান্ত হতো৷ কিন্তু লেখক গ্রন্থভুক্ত দুই ধারার গদ্যকেই মুক্তগদ্য হিসেবে চিহ্নিত করে একই গ্রন্থভুক্ত করার বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে সঠিক হয়নি৷ প্রথম ধারার গদ্যগুচ্ছ প্রসঙ্গে আমরা প্রথমে আলোচনা করবো৷ প্রথম ধারাভুক্ত চারটি গদ্যকে ‘শাস্ত্রবিরোধী গল্প’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়৷ শাস্ত্রবিরোধী গল্প আন্দোলনের সাহিত্যতত্ত্ব অনুযায়ী এগুলোকে শুধু গল্পই নয়, বরং উৎকৃষ্ট গল্প বলা যায়৷ কেননা শাস্ত্রবিরোধী গল্প ইশতেহারের সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে এই চারটি গদ্যে৷ যে ইশতেহারের স্লোগান ছিলো, ‘গল্পে এখন যারা কাহিনি খুঁজবে তাদের গুলি করা হবে৷’ এই ধারার সার্থক গল্প লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের রমানাথ রায়, সুব্রত সেনগুপ্ত, শেখর বসু, কল্যান সেন, আশিস ঘোষ, অমল চন্দ, সুনীল জানা প্রমূখ৷ বাংলাদেশে এই ধারায় আর কেউ লিখেছেন কি না সে খবর আমার জানা নেই৷ যদিও সাম্য রাইয়ান এগুলো প্রসঙ্গে কোন ভূমিকা লিখেননি বইয়ে, ফলে এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানার সুযোগ হচ্ছে না৷ তবে তিনি সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “… (গ্রন্থে) কিছু মুক্তগদ্য আছে যেগুলো নীরেট অনুভূতি দিয়ে গাঁথা৷ প্রলাপ৷ অন্ধকারের কুঠুরীতে বসে বকে যাওয়া কথামালা৷ জলের তরঙ্গ কিংবা শিশির-বিন্দু-প্রবাহের অনুভূতি তৈরি করবে আপনার মনে৷ এমনই তো৷ এইসব বেখেয়ালী রচনাকতক— … এটা জার্নি— এই ট্রেন আপনাকে নির্দিষ্ট কোথাও পৌঁছে দেবে না, বরং যেতেই থাকবে৷ যতক্ষণ আপনার ইচ্ছে হবে যাত্রা করবেন, কোনো রূপে আটকে গেলে ট্রেন থেকে নেমে যাবেন— এটা তো লোকাল ট্রেন, চিন্তা কী?” অর্থাৎ সাম্য রাইয়ান এগুলোকে প্রলাপের মত মুক্তগদ্য বলছেন৷ কিন্তু আমি এই চারটি গদ্যকে ‘শাস্ত্রবিরোধী গল্প’ বলতেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করব৷ যেমন ‘দুলে ওঠে তোমার প্রদীপ’ গল্পে সাম্য লিখেছেন, “চুপচাপ, মনে হয়, তবু যেন কেউ ওই পাড়ে আছে৷ কোনো কথা নেই, সাড়াশব্দ থেমে গেছে কত আগে! কখনো জলের মতো মৃদু বুদবুদ হয়ে জাগে! দু'ঝুটি চুল ঘুমিয়ে পড়েছে কবে…৷ ঘুমাচ্ছে কুয়াশা গুটিয়ে আস্তিন; থেমে থেমে আসে তুমুল বৃষ্টিদিন৷”

‘বিদীর্ণ আলোর ধারা’ গল্পে তিনি লিখেছেন, “আবহাওয়া দফতর বলেছে, জানে না জলের কথা— মেঘের খবর৷ আকাশে তাক করে শ্বাসের প্রোটিন, ভাবছি পড়বো প্রেমে, লিখবো রোদের কথা৷” সাম্যের রচনার বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হলো সাধারণ শব্দে-বাক্যে অসাধারণকে ধারণ করা৷ বরবরই তিনি সেটা করেছেন, কি কবিতায়, কি গদ্যে! সমান পারঙ্গমতা দেখাচ্ছেন৷ 

শীতের কুয়াশা ভেদ করে ট্রেন আসে; লোকাল ট্রেন- যেখানে মাটি আর মানুষ এবং তাঁদের যাপিত বোধ একাকার। আমরা প্রতীক্ষা করে থাকি- সাম্য রাইয়ানের পকেটের দিকে তাকাই। তিনি শিশুর আনন্দ বোঝেন, আমাদের জন্য নিয়ে আসেন অনেকগুলো হাঁসের বাচ্চা। তাই ‘পৃথিবী খুব একটা মজার জায়গা না’ গল্পে তিনি লিখেন, “নদীর টানে বিধ্বস্ত হয়ে হয়ে মাটিতে মিশে গেলাম। দৃষ্টিসীমায় দেখি প্লাবন- মনে হয়, সে তো অন্য কেউ নয়, এই আমি- যার সাথে দেখা হলে পথে মাইশা চিৎকার করে ডাকে- পাগলা দাদা, কই যাও?
শিশুটি খলখলিয়ে হাসে। জগৎ বিদীর্ণ করে হাসে। আমিও হাসি। হাসতে হাসতে বলি, পকেটে হাঁসের বাচ্চা আছে, নিবি?”

প্রেম কতটা প্রকট সুন্দর রূপ নিয়ে প্রকাশিত হতে পারে তার নমুনাও যেন ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ গ্রন্থে ফুটে ওঠে৷ লেখকের অন্তর্গ নিগূঢ় অনুভূতি আমাদের নাড়া দেয়৷ তাঁর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পাঠককে চমকে দেয়া বা ধাক্কা দেয়া৷ একটি নির্দিষ্ট গতিতে তিনি পাঠককে নিয়ে জার্নি শুরু করেন৷ এরপর শেষ বাক্যে এমন অনুভূতি তৈরি করেন যাতে পাঠক ধাক্কা খেতে বাধ্য৷ আবার নতুন করে পুরোটা পড়ার আবেদন তৈরি হয় এতে করে, যখন ‘দুলে ওঠে তোমার প্রদীপ’ গল্পে তিনি লিখেন, “ঘোলাজল ভাসতে ভাসতে তোমার কাছে পৌঁছে যায়৷ বুঝতে পারি৷ প্রয়োজন নেই পুরাতন তর্কের৷ অযথা প্রজাপতি! বৃথা অক্টোপাসের মতো বন্ধু ছিলো যারা, প্রণাম জানিয়ে ফিরে এসে ভাবি, জীবন দেখায় যেন রঙধনু৷ অসুস্থ হয়ে কী লাভ, যদি তোমার শুশ্রূষা না পাই?”

এবার আসি দ্বিতীয় ধারা প্রসঙ্গে৷ দ্বিতীয় ধারার নয়টি গদ্য গ্রন্থভুক্ত হয়েছে৷ এই ধারার গদ্যগুচ্ছ পাঠ করে মনে হয়েছে, নতুন ধরনের গদ্য লিখেছেন তিনি৷ এই গদ্যের ধরণ বাংলা ভাষায় প্রথম হবার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান৷ আমরা কবিতা নিয়ে আলোচনা/সমালোচনা পাঠ করে অভ্যস্ত৷ কিন্তু ‘কবিতাপাঠের অনুভূতি’ পাঠ করতে একেবারেই অভ্যস্ত নই৷ ‘কবিতার দুর্বোদ্ধতা’ প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বসু যেমন বলেছিলেন, “কবিতা সম্বন্ধে ‘বোঝা’ কথাটাই অপ্রাসঙ্গিক। কবিতা আমরা বুঝিনে; কবিতা আমরা অনুভব করি। কবিতা আমাদের কিছু ‘বোঝায়’ না; স্পর্শ করে, স্থাপন করে একটা সংযোগ। ভালো কবিতার প্রধান লক্ষণই এই যে তা ‘বোঝা’ যাবে না, ‘বোঝানো’ যাবে না।” এই যে বুদ্ধদেবের কথা, এই কথাখানির সফল প্রয়োগ লক্ষ করলাম সাম্য রাইয়ানের ৯টি গদ্যে৷ এ প্রসঙ্গে সাম্য রাইয়ান নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “কবিতা আমরা অনুভব করতে পারি৷ এমত ভাবনা থেকেই ২০১০ সালের দিকে শুরু করেছিলাম এক নতুন খেলা— কবিতা বনাম কবিতা কবিতা খেলা! এ হলো সিরিজ গদ্য৷ এই গদ্যগুলোতে আমি বাঙলা ভাষার বিশেষত নতুন সময়ের (শূন্য, প্রথম ও দ্বিতীয় দশকের) নতুন কবিদের কবিতা পাঠপরবর্তী অনুভব ব্যক্ত করেছি৷ এগুলো মূল্যায়নধর্মী গদ্য নয়৷ কখনো কবিতা পড়তে পড়তে আমার মধ্যে যে ভাবের উদয় হয়েছে, তা বিবৃত করেছি৷ আবার কখনো কোন কবিতা পড়ে ব্যক্তিগত কোন স্মৃতি মনে পড়েছে, তা-ই উল্লেখ করেছি৷ হুবহু, অকপটে!” তিনি এখানে অর্ধশতাধিক কবির কবিতাংশ উদ্ধৃত করেছেন, এবং তা পাঠ করে পাঠক হিসেবে সাম্য রাইয়ানের মধ্যে যে ‘অনুভূতি’ সৃষ্টি হয়েছে তা-ই তিনি গদ্যগুলোতে অভিনব কায়দায় বিবৃত করেছেন৷ যা আমার মতো পাঠকের কাছে কবিতাকে আরো নতুন আরো আকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপন করেছে৷ এখানে আবুল হাসান, সিকদার আমিনুল হক থেকে শুরু করে হাল আমলের সুহৃদ শহীদুল্লাহ, ভাগ্যধন বড়ুয়া, জিললুর রহমান, সৈয়দ সাখাওয়াৎ রাজীব দত্ত, আহমেদ নকীব, তানজিন তামান্না, আরণ্যক টিটো, নাভিল মানদার, আহমেদ মওদুদ, হাসনাত শোয়েব, বিধান সাহা, নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, শুভ্র সরখেল, রাশেদুন্নবী সবুজ, মাহফুজুর রহমান লিংকন, শাহেদ শাফায়েত, শামীমফারুক, ফরহাদ নাইয়া, রাসেল রায়হান, নাজমুস সাকিব রহমান, সাইদ উজ্জ্বল, চঞ্চল নাঈম, আহমেদুর রশীদ, অনুপ চণ্ডাল, পদ্ম, শান্তনু চৌধুরী, অসীম নন্দন এরকম অ-নে-ক কবির কবিতাংশ উদ্ধৃত করেছেন৷ এই সকল কবি আমার পরিচিত নয়৷ বরং বলা ভাল যে, গুটিকতকের লেখার সাথেই কেবল আমি পরিচিত৷ ফলত ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ পাঠ করে আমি নিজেই অনেক কবির সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পেলাম৷ এ প্রসঙ্গে সাম্য রাইয়ান তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে লিখেছিলেন, “গদ্য লিখি অনেকদিন৷ মুক্তগদ্য লিখছি প্রায় দশ বছর৷ দুই হাজার এগারোতে বিশেষ ধরণের মুক্তগদ্য লিখতে শুরু করি, এগুলো কবিতা নিয়ে, কিন্তু কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা নয়, বরং কবিতা পড়তে পড়তে আমার মধ্যে যে ভাবের উদয় হয়েছে তারই বর্ণনা৷ সংযুক্ত করেছি সেইসব কবিতার অংশ৷”

‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ গ্রন্থে গদ্যের ফর্ম নিয়ে লেখকের এক্সপেরিমেন্ট পাঠককে নতুন স্বাদ দিতে সক্ষম৷ বাংলা ভাষায় সমকালীন প্রায় অর্ধশত কবির কবিতাংশ গদ্যগুলোর শরীরে প্রোথিত করে লেখক শুধু সেই কবিদের সাথে আমাদের পরিচিতই করাননি, বরং তিনি সমকালীন কবিতার যাত্রাপথটিকেই তুলে আনার প্রয়াস পেয়েছেন৷ এখানেই গ্রন্থের নামকরণ সার্থক হয়ে উঠেছে৷ কবিতার এ যাত্রা সকল কবিকে ‘শেষ গন্তব্যে’ পৌঁছে দিবে না, একারনেই লোকাল ট্রেন, মাঝপথে কি অনেকেই নেমে যাবেন? তাহলে ট্রেনের শেষ গন্তব্যের যাত্রী কে বা কারা হবেন? এ প্রশ্নের উত্তর কেবল মহাকালই দিতে পারে৷ কবি ও সম্পাদক তানজিন তামান্না ‘সাম্য রাইয়ানের অশেষ যাত্রার পথ’ শীর্ষক প্রবন্ধে গ্রন্থটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, “গদ্যগুলোতে আহ্বান আছে, আছে জার্নির বিস্ময়— ভাবনা এবং ভাবনায় উঠে আসা যাপিত রাত্রির ঘুমের দ্বন্দ্ব অথবা অন্তর-দ্বন্দ্ব। ভুলে যাওয়া সূত্র মেলাতে গিয়ে মিলে যাবে কোনো কোনো স্বপ্ন। স্বপ্নের ভেতর দ্যাখা যাবে— কোনো এক জমে যাওয়া প্রেম।” গদ্যগুলোর শিরোনাম কাব্যিক— ঘোরজাগানিয়া৷ শিরোনামগুলোই রহস্য তৈরি করে— পাঠককে আকর্ষণ করে৷ লেখকের সাক্ষাৎকার থেকে আরেকটি অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করার লোভ সংবরন করতে পারছি না: “কোনো কবিতা পড়ার সময় হয়তো আমার ছেলেবেলার কোনো ঘটনা মনে পড়েছে, কোনো এক রাতের দৃশ্য মনে পড়েছে, কিংবা নতুন কোনো চিত্রকল্প ভেবেছি সেইসবই বর্ণনা করে গেছি৷ কোনো রাখঢাক নাই৷ যে ভাবে বাক্য উপস্থিত হয়েছে, সে ভাবেই তাকে উপস্থিত করতে চেষ্টা করেছি৷ ফলে এ গদ্য কখনো কবিতার মতো এগিয়েছে আবার কখনো গল্প, আবার কখনো প্রবন্ধের রূপ ধারণ করছে হয়তো একটি অনুচ্ছেদে৷”

গ্রন্থটিতে আছে অসংখ্য কাব্যিক পংক্তি, যা পাঠককে আচ্ছন্ন করে ফেলে, ঘোর তৈরি করে৷ কয়েকটি উদ্ধৃত করছি৷ যাতে করে পাঠক কিছুটা হলেও ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ গ্রন্থের স্বাদ পেতে পারেন৷

১৷ ছাই উৎপাদন ছাড়া যে আগুনের কোনো সম্ভাবনা নেই, তার মূল্য ভেবে ভারাক্রান্ত মন৷ এই ভার বয়ে পৃথিবীর ওজন বেড়ে যাচ্ছে৷ মন ভালো হও— মন ভালো হও— সুস্থ-সহজ হও— প্রেমের শিকার হও—৷

২৷ কতোটা রোদের সাথে মিশে যেতে পারো তুমি মেঘ?

৩৷ জুয়ায় হেরে গেছে তুমুল কুয়াশাভোর; সব খুইয়েছে- নিঃস্ব হয়েছে।  কাউকে লিখব না চিঠি। তোমার ট্রেন ধরবার তাড়া।  চলে যেতে হলে ব্যাগ গুছিয়ে নিতে হয়। তোমার ব্যাগে কি? ব্যাগভর্তি গুডবাই নিয়ে চললে কোথায়?

৪৷ চকচকে ব্লেড দিয়ে অনবরত কাটছিল সে স্মৃতির পাউরুটি। প্রচণ্ড ক্ষুধায় তাকাচ্ছিল না এদিকে-সেদিকে, কোনোদিকেই; একমনে কাটছে তো কাটছেই। ওদিকে আরেক দৃষ্টান্ত; ব্লেড দিয়ে জলকাটার মতো করে চলছে ভূমিভাগপ্রক্রিয়া।

এরকম আরো অনেক উদ্ধৃত করা যেতে পারে৷ যেখানে কবিতা-মুক্তগদ্য-গল্প মিলেমিশে গদ্যের নতুন মোহনা সৃষ্টি করেছে৷ এই মোহনায় অবগাহনে পাঠকমননে নতুন পাঠঅভিজ্ঞান সৃষ্টি হয়৷

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *